নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 332 বার পঠিত

বিচারাধীন মামলার প্রায় ৪০ শতাংশ দেওয়ানি। ফৌজদারি মামলার নেপথ্যেও রয়েছে দেওয়ানির মতো জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও বিরোধ নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা। বিচারাধীন প্রায় ১৭ লাখ দেওয়ানি মোকদ্দমা পরিচালিত হয় ১১৭ বছরের পুরোনো দেওয়ানি কার্যবিধি দিয়ে। দেওয়ানি মোকদ্দমার এ দীর্ঘসূত্রতা ও জট নিরসনে পদ্ধতিগত আইন তথা দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনের মাধ্যমে তা অধিকতর কার্যকর ও যুগোপযোগী করার তাগিদ ছিল দীর্ঘদিনের। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প ব্যয়ে, দ্রুত সময়ে, সহজে ও হয়রানি ব্যতিরেকে বিচারিক সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আইনি সংস্কারের অংশ হিসেবে দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ এর মাধ্যমে দেওয়ানি কার্যবিধিতে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
আরজিতে বাদী-বিবাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যুক্তকরণ: অধ্যাদেশটির মাধ্যমে বাদী ও বিবাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ইমেইল, মোবাইল বা টেলিফোন নম্বর থাকলে তা আরজিতে উল্লেখ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা প্রতিরোধ ও সমন জারি কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর করতে এ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সমন জারি পদ্ধতির ডিজিটালাইজেশন: কুরিয়ার ও ইমেইলের মাধ্যমে সমন জারির বিদ্যমান বিধানের পাশাপাশি সমন জারির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত ও অধিকতর কার্যকর করতে ভয়েস কল, এসএমএস, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সার্ভিস যেমন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সমন জারির নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত পদাতিক সমন ও ডাক সমনের বিকল্প নয়; বরং অতিরিক্ত হিসেবে এ বিধান যুক্ত করা হলেও তা প্রতিদ্বন্দ্বিতাসূত্রে মোকদ্দমা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে সমন যথাযথভাবে জারি না হলে বা বাইরের জেলায় সমন জারির ক্ষেত্রে এ বিধান কার্যকর হবে।
একতরফা আদেশ রহিতের সুযোগ সীমিতকরণ: বর্তমান ছয়টি পদ্ধতিতে একতরফা আদেশ রহিত বা বাতিল করার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৯ বিধি-১৩ এর অধীনে একতরফা আদেশ বাতিলের বিধান।
মুলতবি কমিয়ে আনা: বিচার শুরুর আগে বাদী ও বিবাদী প্রত্যেকে ছয়বার মোট ১২ বার আবেদন করার সুযোগ পেত। এখন সংশোধনীর মাধ্যেমে সেটি চারবার করে মোট আটবারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
এফিডেভিটের মাধ্যমে জবানবন্দির বিধান: সাক্ষ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বাদী ও বিবাদীকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আরজি ও ক্ষেত্রমতে জবাবের বক্তব্য পুনরায় বলতে হতো এবং বিচারককে সেটি লিপিবদ্ধ করতে হতো। তা ছাড়া বাদী ও বিবাদীকে তাদের জবানবন্দিতে নিজের আরজি বা জবাবের বক্তব্য পুনরায় মৌখিকভাবে বলার পাশাপাশি অপরপক্ষের বক্তব্যকেও অস্বীকার করতে হতো। এতে একটি মামলার বাদী ও বিবাদীর সাক্ষ্য শেষ হতেই কয়েকটি ধার্য তারিখে কয়েক মাস বা বছরের প্রয়োজন হতো, যা প্রকারান্তরে মামলাজট ত্বরান্বিত করত। বিষয়টি সমাধান এবং কর্মঘণ্টার সাশ্রয়, মোকদ্দমা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার ও মামলাজট নিরসনে এফিডেভিটের মাধ্যমে বাদী ও বিবাদীর জবানবন্দি গ্রহণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সরাসরি ডিক্রি বাস্তবায়নের সুযোগ: দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১-এ বিধি-১০৪ হিসেবে নতুন একটি বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ বিধানের ফলে আদালত চাইলে এবং উপযুক্ত মনে করলে মূল মোকদ্দমাতেই ডিক্রি জারির দরখাস্ত গ্রহণ করে ডিক্রিটি কার্যকরের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। এ সংশোধনীর কারণে একটি মামলায় ডিক্রি লাভের পরও পুনরায় পৃথক জারি মামলা দায়ের করার প্রয়োজন পড়বে না। এতে একদিকে যেমন মামলাজট কমবে, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থী জনগণের হয়রানিও কমবে।
রায় ও আদেশ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাস্তবায়ন, ডিক্রিদারকে দখল বুঝিয়ে দেওয়াসহ যে কোনো রায় বা আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদালত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য নির্দেশ দিতে পারবে মর্মে দুটি পৃথক বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
দেওয়ানি কারাবাসের ক্ষেত্রে খোরপোষের বিধান বাতিল এবং মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তা ছাড়া টাকা আদায় মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সরাসরি ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাবাসসহ বিশেষ কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছে। মোকদ্দমা পুনরায় বিচারার্থে রিমান্ডে প্রেরণের সুযোগ সীমিত করা, আদালতের কার্যতালিকা সংক্রান্ত বিধান যুগোপযোগীকরণসহ আনীত সকল সংশোধনী মামলাজট নিরসন ও দ্রুত বিচারিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থা সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Posted ৬:৩১ পিএম | শুক্রবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।