বিশ্ব ডেস্ক | সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 21 বার পঠিত

যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস বা শান্তি পর্ষদ’-এর পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। মূলত পুজির সংস্থান বাড়াতে এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য অন্যান্য বিশ্বনেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আলজাজিরা বলছে, গাজা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংস্থা হিসেবে এই পর্ষদকে বিস্তৃত রূপরেখা তৈরি করেছেন ট্রাম্প। যার নেতৃত্ব দেবেন খোদ তিনিই।
গতকাল রোববার ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠনে তাঁর প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে ইচ্ছুক দেশগুলোর কাছে শতকোটি ডলার অর্থ দেওয়ার শর্ত দিচ্ছেন। এই অর্থের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতেই। প্রস্তাবিত এই সংস্থার একটি খসড়া সনদে ট্রাম্পকে এরই মধ্যে পর্ষদের চেয়ারম্যান উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন কোনো সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভেটো ক্ষমতা থাকবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠনে এই বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। সে সময় একে যে কোনো জায়গা ও যে কোনো সময়ের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বোর্ড হিসেবেও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প জানান, এই পর্ষদের তত্ত্বাবধানে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার সাময়িকভাবে গাজা শাসন পরিচালনা করবে। পরদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই পর্ষদের সদস্য হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং নিজের জামাতা জ্যারেড কুশনারের নাম ঘোষণা করেন।
রয়টার্স, এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানানো হয়, শনিবার আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং প্যারাগুয়ের নেতা সান্তিয়াগো পেনা সামাজিক মাধ্যমে গাজার শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণপত্র শেয়ার করেছেন। আবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদেরও গাজার শান্তি পর্ষদের অংশ হতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আলজাজিরা জানায়, গাজার তথাকথিত শান্তি পর্ষদে যুক্ত হতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। আঙ্কারা ও কায়রোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শান্তি পর্ষদে দুই নেতাকে যুক্ত হতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সকে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন বিশ্বনেতাকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে থাকা সনদে পর্ষদের জন্য একটি ব্যাপক ম্যান্ডেট বা কর্মপরিধির রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে। একজন কূটনীতিক একে ‘ট্রাম্পের জাতিসংঘ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমন পর্ষদ জাতিসংঘের মৌলিক নীতিগুলোকেও উপেক্ষা করছে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা এপিকে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এই শান্তি বোর্ডের বর্ধিত ভূমিকাটি বর্তমানে এখনও একটি আকাঙ্ক্ষা পর্যায়ে রয়েছে।
পর্ষদের সদস্য তালিকা নিয়ে আপত্তি ইসরায়েলের
ট্রাম্পের গঠিত তথাকথিত গাজা শান্তি পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ইজরায়েল। এএফপি জানায়, গত শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এতে জানানো হয়, ‘বোর্ড অব পিসের অধীনে গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের গঠন-সংক্রান্ত ঘোষণা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়নি। এটি ইসরায়েলের নীতির পরিপন্থি।
গাজা শাসন নিয়ে মার্কিন সমর্থিত কমিটির লক্ষ্যপত্র
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সমর্থিত ফিলিস্তিনি কমিটি একটি লক্ষ্যপত্র প্রকাশ করেছে। ন্যাশনাল কমিটি ফর গাজা ম্যানেজমেন্ট বা এনজিএসির প্রধান আলী শাথ বলেছেন, এই টেকনোক্র্যাটিক সংস্থাটি মৌলিক পরিষেবাগুলো পুনরুদ্ধার করতে এবং শান্তিতে বিশ্বাসী একটি সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করবে।
Posted ৮:০২ এএম | সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।