নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২১ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | 256 বার পঠিত

পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফরিদপুরের সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ১৫ দিনের ভাঙনে কয়েকটি রাস্তা আংশিক বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই বসতভিটা হারাতে বসেছেন। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে ভিটেমাটি ফেলে অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নজরদারি ও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সব মিলিয়ে হঠাৎ করে পদ্মার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীর পাড় এবং চরাঞ্চলের মানুষেরা। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ভুক্তভোগীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভাঙন। ভাঙনে সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার শয়তানখালি ঘাট, খোকারাম সরকারের ডাঙ্গি, গোপালপুর ঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এছাড়া ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের মুন্সীরচর, পিঁয়াজখালির চর, আকোটের চরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। এছাড়া ছলেনামা ও খোকারাম সরকারের ডাঙ্গিতে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর ঝুঁকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। অনেকে নদীর পাড়ে ঝুঁকি নিয়ে খোলা জায়গায় বসবাস করছেন। অনেকে বাড়িঘরের চাল খুলে অন্য জায়গায় রাখলেও খুঁটি ও বেড়া লাগিয়ে রেখেছেন, যদি ভাঙন থেমে ভিটেটুকু টিকে থাকে সেই আশায়।
সদরপুর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদারকান্দি, বিশ্বনাথপুর, কাচিকাটা, নন্দলালপুর, ফকির কান্দি, তালপট্টির চর, কাড়ালকান্দি, জঙ্গিকান্দি, জামাল শিকদার কান্দি এবং চরমানাইর ইউনিয়ন ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী ঘাট, কাজিরসুরা, দুর্বারটেক, মফিজদ্দিনের কান্দি, হাফেজ কান্দি, রাড় চরগজারিয়া ও গিয়াস উদ্দীন মুন্সীর কান্দি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের সবুল্লা শিকদারের ডাঙ্গি, সদর ইউনিয়নের টিলারচর ও এমপি ডাঙ্গি, চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চর কালকিনিপুর, চরমির্জাপুর, চরতাহেরপুর, চরকল্যাণপুর, দিয়ারা গোপালপুর গ্রামেও পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কাচিকাটা গ্রামের বাসিন্দা রহিম শেখ বলেন, পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙনও বেড়েছে। নদীর পাশেই আমার বাড়ি। নদী ভাঙন তীব্র হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি।
আকোটের চর ইউনিয়নের খোকারাম সরকারের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আকিদুল জানান, সারা বছর পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হয়। আর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। প্রভাবশালীদের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনের খেসারত দিচ্ছে এলাকাবাসী।
শয়তানখালি ঘাট এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৫ দিনে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনও বেড়েছে। তবে ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেই। কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বসতভিটা, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
সদরপুরের আকোটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, পদ্মার ভাঙন তীব্র হওয়ায় দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষ।
চরভদ্রাসনের চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা বলেন, ১৫ দিন ধরে এ ইউনিয়নের কমপক্ষে ৫টি পরিবারের ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ইউনিয়নে অন্তত ৩ হাজার বিঘা বাদামের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
Posted ৪:৪৬ পিএম | শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।