নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | 287 বার পঠিত

ঈদের পরে দ্বিতীয় হাটেও কাঙ্ক্ষিত চামড়া ওঠেনি যশোরের বৃহত্তম চামড়ার মোকাম রাজারহাটে। বিক্রি কম হওয়ায় চামড়ার মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। আসেননি পাইকাররাও।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদে লম্বা ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ সংকটে বেচাকেনা কম হয়েছে। আগামী শনিবার (২১ জুন) হাট জমজমাট হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের ঈদের পর টানা ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ রয়েছে। সে কারণে বাইরে থেকে বিশেষ করে কুষ্টিয়ার বড় বড় ব্যাপারীরা হাটে আসতে পারেননি। ফলে হাটে ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। ট্যানারি মালিকদের দুই তিনজন প্রতিনিধি আসলেও তারা কেবল ‘হাট দেখতে এসেছেন’। আবার নগদ অর্থ না থাকায় স্থানীয় ক্রেতারাও চামড়া কিনতে পারেননি।
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। চামড়া মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৯০০ টাকায়, অথচ খরচসহ সংগ্রহ মূল্যই এর চেয়ে বেশি।
ছাগলের চামড়া কিনতে যেখানে ৪০-৫০ টাকা খরচ হয়েছে, সেখানে হাটে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০-২০ টাকায়। তবে ভালো মানের ছাগলের চামড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান।
হাটে একশ পিস গরুর চামড়া এনেছিলেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর এলাকার মৌসুমী ব্যবসায়ী ভদ্র দাস। হাটের অবস্থা দেখে খুবই হতাশ তিনি। বললেন, অন্য কোনো কাজ জানিনা বলে এই ব্যবসা করছি দীর্ঘদিন ধরে। গতবার একটু লাভের মুখ দেখলেও এবার চোখে অন্ধকার। কেনার পর প্রক্রিয়া ও হাটে আনা নিয়ে চামড়া প্রতি খরচ পড়েছে সাড়ে ৭০০ থেকে সাড়ে ৯০০ টাকার মতো। কিন্তু এই হাটে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দাম বলে গেছে। এই দামে বিক্রি হলে মাঠে মারা যাবো।
যশোর সদরের নারাঙ্গালি এলাকার রবিন দাস দুটি গরুর আর ৫৬টি ছাগলের চামড়া বিক্রি করেছেন। গরু ৪০০ করে আর ছাগলের চামড়া ২০ থেকে ৬০ টাকা দরে। সব খরচ শেষে সমান সমান বলে জানান তিনি।
যশোর সদরের রূপদিয়া এলাকার রতন দাস বলেন, এই হাটে চামড়ার আমদানি খুব কম। অনেক মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে চামড়া এখনো আসেনি।
তিনি ৫০০ ছাগলের চামড়া কিনবেন বলে জানান। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ শ’দেড়েক কিনেছেন। ভালো চামড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত দাম দিয়েছেন। কিনেছেন ২০টাকা মূল্যেরও ।
খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকার সাধন দাস আজকের হাটে ২০০ পিস গরুর চামড়া আনেন। এরমধ্যে ৫০ পিস বিক্রি হয়েছে ৭শ থেকে ৮শ টাকা দরে।
তিনি বলেন, ‘এ’ গ্রেডের চামড়ার চাহিদা বেশি। কিন্তু হাটে একশ চামড়ার মধ্যে ১৫-২০টিও ‘এ’ গ্রেডের মিলছে না।
হাটের পরিস্থিতি দেখতে এসেছিলেন সদরের লেবুতলা আজমতপুর এতিমখানা ও মাদ্রাসার সহ-সুপার ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, এবার ৮৭ পিস গরু আর ২২০ পিস ছাগলের চামড়া পেয়েছেন। লবণ দিয়ে প্রসেস করে রাখা ওই চামড়া পরের শনিবার হাটে তুলবেন বলে জানান। গতবার কাঁচা চামড়া বিক্রি করে বেশ লাভ হয়েছিল, এবার প্রসেস খরচ করেও আগের মতো দাম পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বলে জানান।
রাজারহাট চামড়া মোকামের ব্যবসায়ী হাসিব চৌধুরী বলেন, ঈদ পরবর্তী গত মঙ্গলবার (১০ জুন) প্রথম হাটে চামড়া ও ক্রেতা কম ছিল। প্রত্যাশা ছিল শনিবার (১৪ জুন) হাটে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার চামড়া উঠবে, হাটে কেনাবেচা জমবে। কিন্তু হাটে ২০-২৫ হাজার চামড়া উঠলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি খুবই কম।
ব্যাংক বন্ধ থাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীর হাতে নগদ টাকা নেই। যেকারণে ব্যাংক না খোলা পর্যন্ত কুষ্টিয়া, ঢাকাসহ আশপাশের বড় ব্যবসায়ীরা হাটে আসেননি বলেন তিনি।
চামড়া ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, আজকের হাটে ‘এ’ গ্রেডের চামড়া ৯শ থেকে ১১শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে এই মানের চামড়ার সংখ্যা একেবারেই কম। তিনি বলেন, আগামী শনিবারের (২১ জুন) হাটে চামড়া বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছি।
রাজারহাট চামড়া মোকামের ইজারাদার খুরশিদ আলম বাবু বলেন, ব্যাংক বন্ধের বিষয়টি চামড়া বেচাকেনায় বড় প্রভাব পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের চামড়া আড়ৎ থেকে বের করেননি। আশা করা যায়, আগামী শনিবারের হাটে এ সঙ্কট কেটে যাবে।
Posted ৪:৫০ পিএম | শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।