ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

বোরকা পরে ভারতে চলে যান আনিসুলের আস্থাভাজন আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   340 বার পঠিত

বোরকা পরে ভারতে চলে যান আনিসুলের আস্থাভাজন আ.লীগ নেতা

গত ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে বিপাকে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়ও তার ব্যতিক্রম নয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রভাবশালী পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজলও পালিয়েছেন। তিনি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে পালিয়েছেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি ছবি ভাইরাল।

কাজল সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের খুবই আস্থাভাজন ছিলেন। জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের দিন পুকুর সাঁতরে বোরকা পরে পালিয়ে ভারতে চলে যান তিনি। এরপর একে একে বের হতে থাকে আখাউড়া পৌর কর্তৃপক্ষের লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র। অভিযোগ রয়েছে-এসব অপকর্মের ‘মাস্টারমাইন্ড’ পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফয়সাল আহমেদ খান। অথচ, পটপরিবর্তনের ৯ মাস পরও বহাল তবিয়তে আছেন এই প্রকৌশলী।

জানা গেছে, সম্প্রতি সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড ইজারা দিতে গেলে চাঁদাবাজি বন্ধে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চালকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন। তাদের অভিযোগ, সুচতুর প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের কুবুদ্ধিতে পৌর কর্তৃপক্ষ ৫০ লাখ টাকায় আখাউড়া বাইপাস, পুরোনো থানা ও রাজারদিঘী নামের ৩টি সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড ইজারা দিয়েছেন।

২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বরে উপসহকারী (সিভিল) প্রকৌশলী হিসাবে ফয়সাল আহমেদ খান আখাউড়া পৌরসভায় যোগদান করেন। এরপর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক মেয়র তাকজিল খলিফা কাজলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় একই কর্মস্থলে প্রায় ১৫ বছরের সময় ধরে চাকরি করেন। এই সময়ে দুর্নীতি আর ঘুস বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। গড়েছেন বিপুল সম্পদসহ বিলাসবহুল বহুতল ভবন। এখন আবারও ভোল পাল্টে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে ফের অনিয়ম আর দুর্নীতিতে মজেছেন। এ বিষয়ে আখাউড়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফয়সাল আহমেদ খান তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান। সম্পদ বিবরণীর হিসাব জানতে চাইলে তিনি সংযোগ কেটে দিয়ে আর ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ পৌর এলাকার বাসিন্দাদের নতুন ভবন নির্মাণকাজের অনুমোদন ও বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে পৌরসভার ধার্যকৃত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিল আটকে দিয়ে কমিশন গ্রহণসহ ঘুস বাণিজ্যের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের প্রকল্পে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে ফয়সালের বিরুদ্ধে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া পৌরসভায় ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালে ১২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প দেয় বিশ্ব ব্যাংক। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পৌর এলাকায় নতুন পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও পানির লাইন স্থাপন কাজ চলমান থাকলেও সংযোগ না দিয়েই পৌর নাগরিকদের কাছ থেকে পানির সংযোগ ফি বাবদ টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেন প্রকৌশলী ফয়সাল। এমনকি প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের দেওয়া পরিকল্পনামাফিক সাবেক মেয়র কাজল কাউন্সিলরদের মতামত ছাড়াই সব সিদ্ধান্ত নিতেন। এসব বিষয়ে তখন কাউন্সিলরদের ক্ষোভ থাকলেও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আস্থাভাজন প্রভাবশালী ও সাবেক মেয়র কাজলের ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। আখাউড়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ খানের সময়ে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ, সড়কবাতি স্থাপন, ড্রেন, ডিভাইডার ও ফুটপাত নির্মাণসহ যত কাজ হয়েছে; তার সবই নিম্নমানের এবং কোনোটাই টেকসই হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বরে উপসহকারী (সিভিল) প্রকৌশলী হিসাবে ফয়সাল আহমেদ খান আখাউড়া পৌরসভায় যোগদান করেন। এরপর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক মেয়র তাকজিল খলিফা কাজলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় একই কর্মস্থলে প্রায় ১৫ বছরের সময় ধরে চাকরি করেন। এই সময়ে দুর্নীতি আর ঘুস বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। গড়েছেন বিপুল সম্পদসহ বিলাসবহুল বহুতল ভবন। এখন আবারও ভোল পাল্টে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে ফের অনিয়ম আর দুর্নীতিতে মজেছেন। এ বিষয়ে আখাউড়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফয়সাল আহমেদ খান তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান। সম্পদ বিবরণীর হিসাব জানতে চাইলে তিনি সংযোগ কেটে দিয়ে আর ফোন রিসিভ করেননি।

বর্তমানে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা ইউএনও জিএম রাশেদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:২৪ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।