নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০২ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | 344 বার পঠিত

নড়াইল সদরে সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) প্রশিকা নড়াইল উন্নয়ন এলাকার ব্যবস্থাপক শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন শাহবাদ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান।
শুক্রবার (২ মে) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার ১৩ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- প্রশিকার গঠিত সংগঠন প্রভাতী যুব সংঘের সভাপতি সদর উপজেলার তুজরডাঙ্গা এলাকার মুজিবুর রহমান, সদস্য জরিনা বেগম, রজব আলী, মো. আজিবর, মো. ইলিয়াছ, ইমান আলী, মো. ওমর, মো. হায়দার, আবু সাঈদ, মো. এনামুল ও মো. শরিফুল।
জানা যায়, মঙ্গলবার নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদে সরকারি জায়গা থেকে ১০৯টি গাছ কেটে ফেলা হয়। খবর পেয়ে ওই দিন ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে গাছগুলো জব্দ করেন নড়াইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাশীষ অধিকারী।
তিনি দাবি করেন, মামলার আসামিরা কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই সরকারি খাসজমি থেকে গাছ কেটে বিক্রি করেছেন।
স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ বাজার থেকে হাজির বটতলা পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে সারি সারি মেহগনি ও আমগাছ রোপণ করেছিল প্রশিকা। ওই সময় সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত হওয়ায় জমির মালিক ইউপি, প্রশিকা ও তার সহযোগী সংগঠন প্রভাতী যুব সংঘের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে গাছগুলো রোপণ করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০ বছর পর ২০২৯ সালে গাছগুলো পরিপক্ব হলে বিক্রির কথা ছিল; কিন্তু সম্প্রতি ওই এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশনের কাজ চলমান থাকায় গাছগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই গাছগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেয় চুক্তিবদ্ধ তিন পক্ষ। তবে এতদিনে সড়কটি খাস হয়ে যায়। যে কারণে গাছগুলো কর্তনের অনুমতি চেয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করে প্রশিকা। এতে ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ও প্রভাতী যুবসংঘের সদস্যরা সম্মতি জানিয়ে যৌথ স্বাক্ষর করেন; কিন্তু এ বিষয়ে ইউএনও কার্যালয় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। পরে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ২৯ এপ্রিল উপজেলার শাহাবাদ বাজার থেকে হাজির বটতলা পর্যন্ত সরকারি রাস্তার উভয়পাশ থেকে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেয় প্রভাতী যুবসংঘের সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছবোঝাই একটি ট্রাক এবং নছিমন জব্দ করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ওই স্থান থেকে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার অধিক গাছ কর্তন ও বিক্রয় করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
জানতে চাইলে, নড়াইল সদর থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রশিকা নড়াইল উন্নয়ন এলাকার ব্যবস্থাপক শাহাব উদ্দিন বলেন, ২০০৯ সালে প্রশিকা, ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রভাতী যুব সংঘের যৌথ উদ্যোগে একটি চুক্তির মাধ্যমে সড়কের পাশে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। ওই সময় সড়কটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ছিল না। বর্তমানে তা সরকারি জমির আওতায় থাকায় গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন করা হয়েছিল, তবে প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি; কিন্তু পরবর্তীতে গাছ কিভাবে বা কারা কেটেছে, তা তিনি জানেন না।
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে গাছ কর্তনের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, প্রশিকার সঙ্গে চুক্তির একটি পক্ষ ছিল ইউনিয়ন পরিষদ। ওই হিসেবে গাছ কর্তনের অনুমতি নিতে ইউএনও বরাবর প্রশিকার আবেদনে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে সুপারিশ করেছিলেন। তবে গাছ কেটেছে প্রশিকা আর তাদের সংগঠন। এখানে চেয়ারম্যান-মেম্বারের করার কিছু নেই।
নড়াইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাশীষ অধিকারী বলেন, প্রশিকার চুক্তির সময় সড়কটি ব্যক্তিমালিকানা জমিতে ছিল, পরে ২০১৫ সালে এটি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। যে কারণে সরকারি খাসজমি থেকে গাছ কাটা বেআইনি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Posted ৪:০৪ পিএম | শুক্রবার, ০২ মে ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।