ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

বিক্রি কমছে অস্বাভাবিক হারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   261 বার পঠিত

বিক্রি কমছে অস্বাভাবিক হারে

দেশে বিপুলসংখ্যক মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্র থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে তাদের পারিবারিক ব্যয়ভার বহন করে। সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমানোর ফলে এসব মানুষকে পারিবারিক ব্যয়ভার বহন করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত অর্থবছরে জুলাই-আগস্টের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিক্রি কমেছে ৬২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে নিট বিক্রি কমেছে ৭৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমার পেছনে কিছু কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-দেশের অর্থনৈতিক মন্দা, কর্মসংস্থানে ভাটা এবং এর ফলে আয় কমে যাওয়া, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের পর মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ না থাকা। আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তি হওয়ায় পরিশোধ বেড়েছে। এছাড়া আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্রকে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসাবে নিলেও আইএমএফের মতে, এটি সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি দায়। কারণ সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে প্রতিবছর বড় অঙ্কের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এদিকে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমে যাওয়ায় এ খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। ফলে সরকারকে ঋণের জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ বাড়ছে।

সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমায় মধ্যবিত্তের সমস্যা বাড়বে। কারণ, অনেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়েই সংসার পরিচালনা করে থাকে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ব্যাংক থেকে না নিয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া উচিত। সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোয় বয়স্ক, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা বঞ্চিত হচ্ছে। আগে ঘনঘন সুদহার পরিবর্তন করা হতো। তখন আইএমএফের শর্ত ছিল না। মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরা আর্থিক সংকটে পড়ে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদ দেওয়ায় আগামী দিনে সঞ্চয়পত্রে সঞ্চয়ের প্রবণতা কমবে। আগে মানুষ প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগ করত। এখন সে আকর্ষণ আর নেই। লক্ষ করা যাচ্ছে, নানা পদক্ষেপের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্তের কাছে সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসাবে সঞ্চয়পত্রের আকর্ষণ কমছে।

সব কল্যাণকামী রাষ্ট্রেই প্রবীণ, অসমর্থ ও অবসরভোগী মানুষের জন্য আর্থিক নিরাপত্তার নানা ব্যবস্থা থাকে-কোথাও কম দামে পণ্য কেনার সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভঙ্গুর; খুব কম মানুষ এর থেকে সুবিধা পান। বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল যাদের পাওয়ার কথা, তারা পাননি। এমন প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের আমলে সঞ্চয়পত্রে সুদহার বাড়ানো হবে, এটাই ছিল মানুষের প্রত্যাশা। এ প্রত্যাশা পূরণ না হলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের হতাশা বাড়বে।

মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের মানুষ কতটা হাঁসফাঁস করছে, তা বহুল আলোচিত। সহসা মূল্যস্ফীতি কমার কোনো লক্ষণও স্পষ্ট নয়। কাজেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে এ খাতে সুদহার বাড়াতে হবে। নতুন কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষের উচিত, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। সরকার ঋণের জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করলে বেসরকারি বিনিয়োগে এর প্রভাব পড়বে। সবদিক বিবেচনা করে সরকারের উচিত, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া। সুদহার না বাড়ালে এ খাতে বিনিয়োগে মানুষের আগ্রহ বাড়বে না।

Facebook Comments Box

Posted ৫:২৭ পিএম | মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।