বিশ্ব ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 83 বার পঠিত

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিতে গানটি নিয়ে সোমবার সরকারি ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দেশটির পার্লামেন্ট। গানটি নিয়ে লোকসভায় বিশদ আলোচনা হয়। তবে বিতর্কের সূচনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির অভিযোগ ছিল, ১৮৭৫ সালে বাঙালি সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ বাদ দিয়ে দেয় তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। তা নিয়েই লোকসভায় কথা বলে বিতর্ক উসকে দেন মোদি।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোদি বারবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। একাধিকবার টেনে আনেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তৎকালীন বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের প্রসঙ্গও। যদিও বক্তব্যে মোদি গানটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ এবং মাস্টারদা সূর্য সেনকে ‘মাস্টার সূর্য সেন’ বলে অভিহিত করেন। আবার কখনও স্বাধীনতা সংগ্রামী পুলিনবিহারী দাসকে ভুলক্রমে ‘পুলিনবিকাশ দাস’ সম্বোধন করেন তিনি। মোদি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার মন্ত্র ছিল, বলিদানের মন্ত্র ছিল বন্দে মাতরম। আজ বন্দে মাতরম-এর গৌরব পুনরায় স্থাপন করার সময় এসেছে।
বিরোধী দল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে মোদি বলেন, ‘বঙ্কিমচন্দ্র যে বন্দে মাতরম লিখেছেন, সেটা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। ১৯০৫ সালে মহাত্মা গান্ধী বন্দে মাতরমকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে দেখেছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী– মুসলিম লীগের সামনে আত্মসমর্পণ করে কংগ্রেস। কংগ্রেসের তুষ্টিকরণ রাজনীতির এটা এক কৌশল ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার পর দেশের সামনে চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পরও বন্দে মাতরম সংকটের সময় প্রেরণা জুগিয়েছে।’
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুরও তীব্র সমালোচনা করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘নেহরু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, বন্দে মাতরম মুসলমানদের প্ররোচিত করতে পারে। এটা ছিল বন্দে মাতরমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
মোদি বিতর্ক উস্কে দেওয়ার পর বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারাও পাল্টা জবাব দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মোদির বক্তব্যের পরেই বক্তৃতা করতে ওঠেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। তিনি বলেন, ‘আজ বিজেপি জাতীয়তাবাদের কথা বলছে। কিন্তু লাখ লাখ মানুষ যখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়ছিল, তখন বিজেপির পূর্বসূরিরা কোথায় ছিল? কংগ্রেস নেতারা সেই সময় আত্মত্যাগ করেছেন, জেলে গিয়েছেন; জীবনও দিয়েছেন। বিজেপি ইতিহাসের পুনর্লিখন করতে পারবে না।’
মোদির বক্তব্যের সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীও। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা লড়াই করেছেন, বিজেপি তাদের নিশানা করেছে। দেশের মূল সমস্যাগুলো থেকে নজর ঘোরানো এবং পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচন মাথায় রেখেই বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছে।
বন্দে মাতরম গানটি ১৮৮২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের জন্য রচনা করেছিলেন এবং ১৯৫০ সালে এটি ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়। খবর এনডিটিভির।
Posted ৫:২৮ পিএম | মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।