বিশ্ব ডেস্ক | রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 89 বার পঠিত

ইসরায়েলে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের প্রস্তুতির খবর সামনে এসেছে। একটি মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। ফলে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আরও দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার সেনা জড়ো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে লিখেছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকায় অতর্কিত হামলা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কোনো সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই স্থল অভিযানটি পূর্ণ মাত্রার কোনো আক্রমণ বা দখলদারিত্ব হবে না। এর পরিবর্তে স্পেশাল অপারেশন ফোর্স এবং প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর সমন্বয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ঝটিকা অভিযান চালানো হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘স্থল সৈন্য ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম।’ তবে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, সামরিক পরিকল্পনা এখন অনেক দূর এগিয়েছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি কোনো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নয়; বরং দীর্ঘদিনের রণকৌশলের অংশ।
এদিকে শনিবার সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়া ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা রোববারও ইসরায়েলে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। ইরানের এই প্রক্সি গোষ্ঠী সংঘাতে যোগ দেওয়ায় যুদ্ধ এখন লোহিত সাগরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের সময় হুতিরা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে চলাচল করা জাহাজে হামলা করেছিল। তখন জাহাজ কোম্পানিগুলো ব্যয়বহুল বিকল্প পথ ব্যবহারে বাধ্য হয়।
বর্তমান পদক্ষেপ নিয়ে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক নাবিল খৌরি বলছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুতিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো মূলত একটি প্রতীকী অংশগ্রহণ। পূর্ণ মাত্রার অংশগ্রহণ নয়।
ইয়েমেনে নিযুক্ত মার্কিন মিশনের সাবেক এই উপপ্রধান আল জাজিরাকে বলেন, চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে তারা কেবল সতর্কবার্তা হিসেবে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। কারণ এই অঞ্চলে বর্তমানে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। এমন আলোচনাও চলছে যে, যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ইরানের ওপর এমন পূর্ণ মাত্রার হামলা হতে পারে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
নাবিল খৌরি আরও বলেন, হুতিরা আসলে দু-একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বলতে চাইছে- ‘আমরা এখনও এখানে আছি। তোমরা যদি সত্যিই ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নামো, তবে আমরাও তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’
খৌরি বলেন, হুতিরা যদি শেষ পর্যন্ত বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধে যোগ দেয়, তাহলে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপটি হবে নৌকা, মাইন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া।
‘তাদের শুধু এই পথ দিয়ে চলাচল করা কয়েকটি জাহাজে আঘাত করতে হবে। আর তাতেই লোহিত সাগর দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।’ -বলেন নাবিল খৌরি। তাঁর মতে, হুতিরা এ কাজ করলে ইয়েমেনও যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
Posted ৪:১৩ পিএম | রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।