নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 263 বার পঠিত

দেশে আধুনিক পশু জবাইখানা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব সম্পর্কে জনপরিসরে দীর্ঘদিন যাবৎ আলোচনা চলিলেও এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা পরিলক্ষিত হইতেছে না। এমনকি রাজধানীতে সরকারি উদ্যোগে পাঁচটি আধুনিক পশু জবাইখানা নির্মিত হইলেও ঐগুলি সচল কিংবা ব্যবহৃত হইতেছে না। শনিবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই জবাইখানার একটি আধুনিকায়নের পরও সাড়ে ছয় বৎসর বন্ধ রহিয়াছে। আরেকটির নির্মাণকাজ এক বৎসর পূর্বে সম্পন্ন হইলেও চালু করিতে পারে নাই কর্তৃপক্ষ। প্রায় একই পরিস্থিতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়ও। তিনটি পশু জবাইখানার মধ্যে মহাখালীর জবাইখানা এখনও চালু হয় নাই; অন্য দুইটা ব্যবহৃত হয় কদাচিৎ। ফলে দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্যতিরেকেই চলিতেছে জবাইকার্য। যত্রতত্র পশু জবাই হইলেও দুই সিটি করপোরেশনের তদারকি নাই। এমনকি প্রতি সোমবার পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকিলেও উহার প্রয়োগ নাই। এই সকল কারণে পরিবেশের ক্ষতি তো হইতেছেই; পশুর স্বাস্থ্যগত দিক যাচাই না হইবার কারণে ভোক্তারও প্রতারিত, এমনকি সংক্রমিত হইবার আশঙ্কা থাকিয়া যায়।
আমরা জানি, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় গবাদি পশু ও মানবদেহে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়াছে। তৎসত্ত্বেও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু জবাই নিশ্চিতকরণ বিষয়ে সক্রিয়তার অভাব উদ্বেগজনক। অথচ পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ব্যতীত উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই নিষিদ্ধ। নিয়মানুসারে জবাইখানায় পশু চিকিৎসকের উপস্থিতি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরই পশু জবাইয়ের অনুমতি মিলিবে। চামড়া ছাড়াইবার পর তিনি স্বয়ং পশুর শরীরে সিলমোহর দিবেন। এই ব্যবস্থায় অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বাজারে বিক্রয়ের সুযোগ বহুলাংশে হ্রাস; ভোক্তার জন্য সংশ্লিষ্ট পশুর মাংস হইতে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও হ্রাস পায়। পুষ্টিগুণও নিশ্চিত হয় বৈ কি। কিন্তু অভিযোগ রহিয়াছে, এহেন নিয়মিত তদারকির অনুপস্থিতিতে কিছু অসাধু কসাই অনেক সময় অসুস্থ এমনকি মৃত পশু জবাই করিয়াও মাংস বিক্রয় করিয়া থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলি জনস্বাস্থ্যের প্রতি নিদারুণ ঔদাসীন্য প্রদর্শন করিয়া চলিয়াছে। অধিকতর দুর্ভাগ্যজনক, রাজধানীর যেই পাঁচটি জবাইখানা নির্মিত হইয়াছিল কোটি কোটি টাকা ব্যয় করিয়া; যাহার সম্পূর্ণটাই জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ। এই অর্থের এহেন অপচয় কোনো অজুহাতেই গ্রহণযোগ্য হইতে পারে না। এহেন পরিস্থিতির কারণরূপে দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাগণ যেই যৌক্তিকতা প্রদর্শন করিয়াছেন, উহা ডিম ও মুরগির পরম্পরা সম্পর্কিত ধাঁধার নামান্তর। আমাদের প্রশ্ন, জনবলের ঘাটতিতে সচল জবাইখানা তদারকি হইতেছে না, নাকি জবাইখানা অচল থাকিবার কারণে জনবল সক্রিয় হইতে পারিতেছে না? অর্থাৎ জবাইখানা সচল করিতে জনবল প্রয়োজন, নাকি জলবল কাজে লাগাইতে জবাইখানা সচল করা প্রয়োজন? এই ধাঁধার উত্তর লইয়া যত বিতর্কই থাক, জবাইখানা সচল বা ব্যবহৃত না হইবার কারণে সংশ্লিষ্টরা যে বিনা কার্যে রাষ্ট্রীয় অর্থের শ্রাদ্ধ করিতেছেন, উহাতে সন্দেহ নাই।
অবস্থাদৃষ্টে এই বক্তব্য বাহুল্য হইবে না, প্রকৃতপক্ষে পশু জবাইখানা সচল করিতে নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই সদিচ্ছার অভাব রহিয়াছে। আমাদের প্রত্যাশা, গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংকট হইতে পরিত্রাণে অবিলম্বে তাহাদের বোধোদয় ঘটিবে। ইতোমধ্যে স্থাপিত জবাইখানাগুলি সচল এবং নূতন নূতন জবাইখানা সমগ্র দেশেই স্থাপন করা হইবে।
Posted ৪:১৫ পিএম | বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।