ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন কর্মকর্তা ও ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি প্রতিনিধিদের মধ্যে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় নেতাদের বহুপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে।
এর আগে গত সপ্তাহান্তে মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে মার্কিন কর্মকর্তা ও হুতি প্রতিনিধিদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে ওমান সরকার।
বৈঠকে হুতিদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও আবদেলমালিক আল-আজিরি। আলোচনায় ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা গুরুত্ব পায়।
বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হুতি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি মেনে চলার কথাও জানিয়েছেন তারা।
হুতিদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইচ্ছা তাদের নেই। তবে ইয়েমেন সংকটে সৌদি আরবের ভূমিকার কারণে সৌদি জাহাজের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।
সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও হুতিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানিয়েছেন, হুতিরা মার্কিন প্রশাসনকে ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়েছে।
তবে মাসকাটের গোপন বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অঞ্চলটিতে চরমপন্থার বিস্তার ঠেকানোই ওয়াশিংটনের প্রধান অগ্রাধিকার।
এদিকে হুতিদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রযাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তৃত এলাকা, কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির পেরিম দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চাইলেও ওয়াশিংটন ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে।
২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাদের সংঘাত চলে আসছে। একপর্যায়ে সংঘাত কিছুটা থেমে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি অবরোধ এবং হুতিদের পাল্টা পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে লোহিত সাগর ঘিরে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
Posted ৬:৫০ এএম | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।