জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 64 বার পঠিত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি শুধু স্বপ্নের কথা বলিনি, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বাস্তব পরিকল্পনার কথা বলেছি। যে বাংলাদেশে শান্তি ও মর্যাদা থাকবে, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে। প্রতিটি শিশু আশার আলো নিয়ে বড় হবে। এই পরিকল্পনা সব বাংলাদেশির জন্য; একটি ঐক্যবদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের জন্য; সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো বাংলাদেশের জন্য।
শনিবার রাতে ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
জনগণ, কৃষক, তরুণ, দলের নেতাকর্মী, অন্যান্য দলের নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের মানুষজন, তরুণরা, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক– সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের ধন্যবাদ। আপনারাই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়, যখন এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকে।
তারেক রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনের নেতাদের গণতন্ত্র, বহুদলীয় সহাবস্থান এবং জনগণের অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর জোর দেওয়ার ভাবনার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি অন্য দলের নেতাদের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির আশাবাদ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন। এসব পরামর্শ গ্রহণ করার কথাও জানিয়েছেন। দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য কাজ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ভোটার হতে কন্যাসহ তারেক রহমানের নিবন্ধন
ভোটার হতে গতকাল শনিবার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তারা দুজন ঢাকা-১৭ আসনের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসার ঠিকানায় ভোটার হতে নিবন্ধন করেছেন। এর আগে গত জুনে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান একই ঠিকানায় ভোটার হয়েছিলেন।
দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ছবি, আঙুলের ছাপ, আইরিশ (চোখের মণির ছাপ) এবং সই করে ভোটার নিবন্ধনের সব প্রক্রিয়া শেষ করেন তারা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন বিষয়ে রোববার (আজ) সভা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মায়ের সঙ্গে ইটিআই ভবনে জাইমা
দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে ইটিআই ভবনে ঢোকেন জাইমা রহমান। পরে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১২টা ৪৫ মিনিটে তারা ইটিআই ভবন ছাড়েন। দুপুর ১টার দিকে ইটিআই ভবনে আসেন তারেক রহমান। সব কাজ শেষে তিনি দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে ইটিআই ভবন ছেড়ে যান। এ সময় সড়কে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারেক রহমানও হাত নেড়ে নেতাকর্মীকে অভিবাদন জানান।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা ভোটার হতে আগেই অনলাইনে ফরম পূরণ করেছেন। এখন আমাদের কাছে এসে শুধু আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই নিবন্ধনের পর সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সার্ভারে খুঁজে দেখবে, সেটা কারও সঙ্গে মিলে যায় কিনা। না মিললে পাঁচ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এনআইডি নম্বর জেনারেট হবে। এটা আমাদের কারও হাতে নেই। এরপর তারা দুজন আমাদের কাছ থেকে এনআইডি বা স্মার্টকার্ড নিতে পারবেন। আবার নিবন্ধনকারীর মোবাইলে মেসেজ যাবে, সেখান থেকেও স্মার্টকার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।’
রোববার (আজ) কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত
বিকেলে ইসি ভবনে ব্রিফিংয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, তারেক রহমান ও জাইমা রহমান শনিবার ভোটার নিবন্ধন ফরম ‘ফরম-২’ জমা দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করেছেন। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। ভোটার তালিকা আইন ২০০৯-এর ১৫ ধারার অধীনে কমিশনের এখতিয়ার রয়েছে যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বা ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিককে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার।
হাদির কবরে
গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করার উদ্দেশে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে তারেক রহমানের গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। আগের দুদিন তাঁকে বুলেট প্রুফ বাসে চড়তে দেখা গেলেও এদিন তিনি সাদা রঙের একটি এসইউভিতে চড়ে আসেন।
হাদির কবর জিয়ারতের পর তারেক রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরে ফুল দেন ও মোনাজাত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমেদ, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।
ছোট ভাই কোকোর কবরে
বনানী কবরস্থানে তারেক রহমান তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি যান বনানীর সামরিক কবরস্থানে। যেখানে শায়িত আছেন তাঁর শ্বশুর সাবেক নৌপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। সেখানে প্রয়াতের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
এরপর পিলখানায়
ঢাকার পিলখানায় হত্যার শিকার সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করেছেন তারেক রহমান। বিকেল ৩টার পর বনানীর সামরিক কবরস্থানে সেনা কর্মকর্তাদের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।
শ্বশুরবাড়ি মাহবুব ভবনে
এদিকে বিকেলে ধানমন্ডির শ্বশুরবাড়ি মাহবুব ভবনে যান তারেক রহমান। বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে তাঁকে বহনকারী গাড়িবহর শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।
Posted ৩:৪০ পিএম | রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।