সোমবার ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

কখনও হাল ছাড়তে নেই: মেসি

খেলা ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   271 বার পঠিত

কখনও হাল ছাড়তে নেই: মেসি

ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি তিনি–গ্রেটেস্ট অব অল টাইম (গোট)। তবে নিজের বাড়িতে তিনি একান্তই দায়িত্বশীল স্বামী আর কারও বাবা। বাসার মধ্যে সারাক্ষণ বাচ্চারা যখন চিৎকার চেচামেচি করে তখন তিনিও আর সব বাবার মতোই একটুখানি শান্তির জন্য একাকিত্ব খুঁজে বেড়ান। তিনি লিওনেল মেসি–সম্প্রতি আর্জেন্টিনার স্ট্রিমিং চ্যানেল লুজু টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিজীবনের অনেক কিছুই শেয়ার করেছেন।

গত মাসে নেওয়া দীর্ঘ এক কথোপকথনের কিছু অংশ মঙ্গলবার লুজু টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে; যেখানে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানিয়েছেন এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স–কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি তাঁর একেবারেই অপছন্দ। তবে টিকটক দেখে মজা পান তিনি। অন্য সবার মতোই তাঁর জীবনেও হতাশা গ্রাস করেছিল একটি সময়, যখন তাঁর মনে হয়েছিল বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই শ্রেয়!

সেই সময় কাটিয়ে ওঠার মন্ত্রও জানিয়েছেন মেসি এই সাক্ষাৎকারে। বলেছেন–‘কখনও হাল ছাড়তে নেই এবং চেষ্টা করে যেতে হয়। পড়ে গেলে আবারও উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হয়। তাতে কাজ না হলে অন্তত জানবেন, নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য আপনি যা যা সম্ভব সবাই করেছেন।’

আসলে মেসি তাঁর জীবনের যে অন্ধকার অধ্যায়ের কথা তুলে এনেছেন তা প্রায় দশ বছর আগের। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলের তুঙ্গে থাকার সময় দেশের হয়ে কিছুই করতে পারছিলেন না তিনি। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনাল হারার পর এতটাই হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন যে অবসরের ঘোষণাও দিয়ে দেন। ‘খুব অনুশোচনা হয়েছিল তখন। মরে যেতে চেয়েছিলাম। তবে সবাইকে নিজ নিজ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। মনের ইচ্ছাটা কখনও এড়ানো যায় না। এটি ভালো যে লোকজন কী বলছে, সে সবের তোয়াক্কা না করে আর্জেন্টিনা দলে ফিরতে পেরেছিলাম।’

সেই ফেরাটাই যেন ছিল তাঁর নবজন্ম। এরপর দুই দু’বার কোপা আমেরিকাসহ বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি আর্জেন্টিনার হয়েই। এখনও দেশের হয়ে খেলাটাই তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। ইউরোপ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর এখন অনেকটা সময় তিনি পরিবারকে দিতে পারেন এবং এটিই তাঁর কাছে এখন সেরা সময়। ‘বাড়িতে আমি আর সবার মতোই সাধারণ কোনো স্বামী বা বাবা। বাসায় আমার তিন বাচ্চা যখন এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করে, চিৎকার করে সবকিছু মাতিয়ে রাখে; ঠিক তার পরের মুহূর্তগুলো শান্ত হয়ে যায়, তখন আমি একাকিত্বটা উপভোগ করি। আমি নিজের দিনটি শুরুতেই নির্দিষ্ট একটি উপায়ে সাজিয়ে রাখি এবং তার মাঝখানে অন্য কিছু ঘটে গেলে আমার সব কিছু বদলে যায়।’

এখনও মেসির কাছে তাঁর বাবাই এগিয়ে চলার প্রেরণা। ‘আমার খেলার সবচেয়ে বড় সমালোচক আমার বাবা। এখনও তিনি ম্যাচের পর আমার ভুল ধরিয়ে দেন। আমি নিয়মিত তাঁর সঙ্গে কথা বলি খেলা নিয়ে।’ তবে বয়স তো কম হলো না–আটত্রিশ চলছে। এক সময় অবসরেও যেতে হবে–তারপর? তিনি কি কোনো ফুটবল দলের কোচ হবেন? ‘নিজেকে আমি কখনোই কোচ হিসাবে দেখি না। ম্যানেজার হওয়ার ধারণাটা আমার ভালো লাগে। ক্লাবের মালিক হওয়াটাই আমার বেশি পছন্দের। নিজের একটি ক্লাব থাকবে, একদম শূন্য থেকে শুরু করে সেটি গড়ে তুলব; যেখানে শিশুদের জন্য গড়ে ওঠার এবং কিছু অর্জন করার সুযোগ পাবে।’

এরই মধ্যে উরুগুয়েতে বন্ধু লুইস সুয়ারেজের একটি ক্লাবের মালিকানাও কিনেছেন মেসি। পরবর্তী অধ্যায়ের শুরুটা হয়েও গেছে তাঁর।

বাসায় স্ত্রী আনতোনেলা রোকোজ্জু দারুণভাবে এআই নির্ভর। ‘কোনো রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে যে কোনো কিছু করতে তিনি চ্যাটজিপিটির আশ্রয় নেন। যদিও আমি এআই প্রযুক্তির বিপক্ষে। ইংরেজি যতটুকু জানি তাতে অন্যরা বুঝতে পারে। তবে আমি স্প্যানিশেই স্বচ্ছন্দ। স্প্যানিশ থেকে ইংরেজিতে কনভার্ট করার জন্য আমি কোনো এআই অ্যাপস ব্যবহার করি না। টিকটক দেখি, মজা লাগে, যখন সেখানে দেখি আমাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।’ পুরো সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেকে একজন সাধারণ আর্জেন্টাইন হিসেবেই তুলে ধরেছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৪:৩৫ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।