নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৮ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | 299 বার পঠিত

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বেশির ভাগ সংস্কার প্রস্তাবেই একমত হয়েছে বিএনপি। চারটি কমিশনের মোট ৫৮৭ প্রস্তাবের মধ্যে ৪৩৬টিতেই একমত দলটি। এর মধ্যে দুদক সংস্কার কমিশনের ৪৭ সুপারিশের মধ্যে ৪৬টিতে, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮ সুপারিশের মধ্যে ১৮৭টিতে, বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ৮৯ সুপারিশের ৬২টিতে এবং নির্বাচনিব্যবস্থা বিষয়ক সংস্কার কমিশনের ২৪৩ সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে একমত বিএনপি। এছাড়া আরও ২৮টি প্রস্তাবে আংশিক একমতও পোষণ করেছে দলটি।
ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশনের বিষয় এখনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। তবে এ কমিশনের প্রস্তাবে থাকা র্যাব বিলুপ্তিসহ প্রায় সব বিষয়েই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আর সংবিধান সংস্কার কমিশনের ১৩১টি সুপারিশে বিএনপি দফাওয়ারি মতামত দিয়েছে। এতেও অধিকাংশ সুপারিশে একমত দলটি।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৭০ অনুচ্ছেদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, জাতীয় সংসদে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটিসহ আসন সংখ্যার অনুপাতে সভাপতির পদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসংক্রান্ত আর্টিকেল ৪৯ পরিবর্তনে একমত দলটি। আরও একমত পোষণ করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, ন্যায়পাল আইন যুগোপযোগী করা, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা বিন্যাসে সংস্কার আনার জন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ সংশোধন ও আইনের মাধ্যমে বিশেষায়িত কমিটি গঠন, উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালত সম্প্রসারণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান পরিবর্তন ও সংশোধনও। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংস্কার নিয়ে কাজ করছেন-বিএনপির এমন দুজন স্থায়ী কমিটির সদস্য অভিন্ন তথ্য দিয়ে জানান, ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশনের বিষয় এখনো আলোচনায় আসেনি। তবে ওই কমিশনে দলের প্রতিনিধিদের কাছে যতটুকু জেনেছেন তাতে র্যাব বিলুপ্তিসহ প্রায় সব বিষয়েই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। দুদক সংস্কার কমিশনে কিছু ছাড় দিয়ে ৪৭টি সুপারিশের ৪৬টিতেই সম্মতি জানিয়েছেন। শুধু ২৯নং সুপারিশে আইনের মাধ্যমে করার পরিবর্তে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিদ্যমান বিধান অব্যাহত রাখার কথা বলেছে দল। এটা না হলে দুদকের কার্যক্রমকে অহেতুক বিলম্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮টি সুপারিশের মধ্যে ১৮৭টি প্রস্তাবে একমত হয়েছে এবং ৫টিতে আংশিক একমত হয়েছে। পাঁচটি সুপারিশে ভিন্নমত প্রদান করেছে। ১১টি প্রস্তাবে একমত হতে পারেনি-যেগুলো দেশে প্রদেশ সৃষ্টি, পদোন্নতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক অসংগতির বিষয়ে। এর মধ্যে পদোন্নতির বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় কার্যকর রয়েছে।
তারা বলেন, বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ৮৯টি সুপারিশের মধ্যে ৬২টি সুপারিশে একমত হয়েছে এবং ৯টিতে আংশিকভাবে একমত হয়েছে। ১৮টিতে ভিন্নমত পোষণ করে যুক্তিসহ পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাবিষয়ক সব প্রস্তাবে একমত হয়েছে। তবে এর কিছু বিষয়ে নির্বাচিত সংসদে আইন প্রণয়ন কিংবা ইতোমধ্যে কোনো অধ্যাদেশ হলে তা সংসদে রেটিফাই ও সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন হবে।
Posted ৮:৫৯ এএম | মঙ্গলবার, ০৮ জুলাই ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।