জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 3 বার পঠিত

ঈদুল আজহায় নৌপথে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ১৭২টি লঞ্চে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসে লঞ্চ সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে রোববার থেকে যাত্রী পরিবহনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ভাড়া কমিয়ে নির্বিঘ্নে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন লঞ্চ মালিকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদে যাত্রীচাপ সামাল দিতে বেশ আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সদরঘাট টার্মিনালে ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়। এই টার্মিনাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করে, সেখানে ঈদের সময় অতিরিক্ত লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে।
রোববার সরেজমিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদে সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন সকাল থেকেই সেখানে যাত্রীরা আসতে শুরু করেন। বিভিন্ন লঞ্চে করে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর যাত্রীদের আনাগোনাও বাড়ছিল। আজ সোমবার থেকে এই ভিড় আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন ২৭ মে পর্যন্ত ঘরমুখী মানুষের ভিড় থাকবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সন্ধ্যায় সপরিবারে লঞ্চযোগে ভোলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন গুলিস্তানের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মনোয়ার হোসেন। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ভোলার ইলিশাগামী ‘এমভি টিপু-৬’ লঞ্চে উঠেছেন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। লঞ্চেই সদরঘাট হয়ে ইলিশা পর্যন্ত যাবেন তারা।
ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী পারাবত-২ লঞ্চের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ভাড়া কম নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কেবিন ভাড়া অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি সিঙ্গেল কেবিনের সরকার নির্ধারিত ভাড়া এক হাজার ৭১৬ টাকা হলেও তা এক হাজার ২০০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে। ডেক ও ডাবল কেবিনের ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।
এদিকে ঘরমুখী মানুষের সর্বাত্মক সুবিধা নিশ্চিতে সতর্ক দেখা গেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও। গত ঈদুল ফিতরে দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণে এবার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছিল- চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে নৌকা কিংবা ট্রলার থেকে যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা ভিড়ানোও যাবে না। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পন্টুনের আশপাশ থেকে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পন্টুন এলাকায় নৌপুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সদরঘাটের ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুন পর্যন্ত নৌপুলিশের চারটি টহল টিম দায়িত্ব পালন করছেন। নৌকা যাতে টহল ভেঙে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এ ছাড়া হকারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত, ফ্রি কুলি সেবা চালু এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই যাত্রী পূর্ণ হলে লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না।
বিআইডব্লিউটির ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, গত ঈদের মতো এবারের ঈদেও ঘরমুখী যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দশনাগুলো বাস্তবায়নে সদরঘাটে সকল অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। এখান থেকে নৌপথের বিদ্যমান ৩৮টি রুটেই লঞ্চ চালানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রাকে ঘিরে ১৭৫টি লঞ্চের সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে।
শুরু হলো বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসও
রোববার থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা লঞ্চঘাট (ল্যান্ডিং স্টেশন) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকেই বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরু হয়। এই বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ঈদুল ফিতরে এই দুটি নতুন ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু হয়েছিল। যাত্রী চাহিদা থাকায় এবারও সেটা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গত ঈদুল ফিতরে বছিলা ঘাট থেকে ছয়টি নৌপথে ছয়টি লঞ্চ দিয়ে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করা হলেও এবার ১২টি লঞ্চ দিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে শিমুলিয়া ঘাট থেকে আগের মতোই দুটি লঞ্চ ও একটি ফেরি চলাচল করবে। এ ছাড়া বছিলা লঞ্চঘাট থেকে কেবল ঈদের সময় নয়, সারাবছরই দুইটি লঞ্চের চলাচল অব্যাহত রাখার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন বছিলা লঞ্চঘাট ঘুরে যাত্রীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল। গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরুর প্রথমদিনে যাত্রীর ভিড় তেমন একটা ছিল না। লঞ্চঘাটের পন্টুনে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের লঞ্চগুলো নোঙর করে যাত্রীদের ওঠানো হচ্ছিল। প্রবেশমুখে কন্ট্রোল রুম এবং যাত্রী বিশ্রামাগারকে ঘিরেও নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর স্টাফদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর শুল্ক আদায়কারী কর্মকর্তা ইনসানুর রহমান জানান, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ওপর চাপ কমাতেই ঈদুল ফিতরে বছিলায় নতুন এই ঘাট চালু করা হয়েছিল। এবারও সেই সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মোহাম্মদপুর, বছিলা, ধানমন্ডি, গাবতলী, আশুলিয়া ও সাভার এলাকার যাত্রীরা সদরঘাট না গিয়ে এই ঘাট দিয়ে নৌপথে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।
Posted ৪:০২ এএম | রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।