বিশ্ব ডেস্ক | রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 3 বার পঠিত

প্রায় এক বছরের দীর্ঘ সমুদ্র মোতায়েন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড শনিবার ভার্জিনিয়ার নৌঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। এই দীর্ঘ মোতায়েনের সময় তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনায় অংশ নেয়, যেমন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযান, ইরান যুদ্ধ, পাশাপাশি জাহাজে আগুন লাগা এবং বারবার শৌচাগার ব্যবস্থার সমস্যার মতো ঘটনাও ঘটে।
এই রণতরীটি ইতিহাসে নথিভুক্ত হয়েছে কারণ ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আর কোনো মার্কিন রণতরী এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অপারেশনাল কার্যক্রমে মোতায়েন থাকেনি।। পুরো যাত্রাজুড়ে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক লক্ষ্যগুলোর ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নাবিকদের পরিবারের জন্য এই প্রত্যাবর্তন ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি। প্রায় এক বছর ধরে তারা মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন, কারণ তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রায় নিয়মিতই সংবাদে থাকা সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছিলেন। শনিবার নরফোকে তারা জড়ো হয়ে রণতরীকে স্বাগত জানায়, আর জাহাজটি ডকের দিকে এগোতেই সবাই উল্লাসে ফেটে পড়ে।
নাবিকদের স্বাগত জানাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পিট হেগসেথ বলেন, ‘ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং এই ডেস্ট্রয়ারগুলো যা করেছে, তা ছিল অসাধারণ, অভূতপূর্ব।’
সাধারণত বিমানবাহী রণতরীগুলো সর্বোচ্চ সাত মাস মোতায়েনের জন্য তৈরি হলেও ফোর্ড সমুদ্রে ছিল ১১ মাস। তবে এই দীর্ঘ সফর মসৃণ ছিল না। গত মার্চ মাসে ফোর্ডের লন্ড্রি এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পুনরায় যেন আগুন না জ্বলে তা নিশ্চিত করতে ক্রুদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
এই ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের ঘুমানোর জায়গা বা বাঙ্ক হারান, তবে কেউ গুরুতর আহত হননি। আগুন লাগার কারণে বেশ কিছুদিন জাহাজে কাপড় ধোয়ার কাজ বন্ধ ছিল, যা ক্রুদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
অগ্নিকাণ্ডের আগে থেকেই জাহাজটির টয়লেট ব্যবস্থায় বারবার সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। ফলে মাঝেমধ্যেই জাহাজের শৌচাগারগুলো আংশিকভাবে বিকল হয়ে পড়ত, যা ক্রুদের জন্য ছিল চরম ভোগান্তির। শেষ পর্যন্ত ত্রুটি মেরামতের জন্য জাহাজটিকে একটি বন্দরে নোঙর করতে হয়েছিল।
প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের এই রণতরীকে বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইরান ও ভেনেজুয়েলা সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। ভেনেজুয়েলা অভিযানে এটি বিমান উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মিশনে অংশ নেয়, আর ইরানে যুদ্ধ অভিযানে বারবার যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
জাহাজের ইলেকট্রনিক ক্যাটাপল্ট সিস্টেম ছোট ড্রোন থেকে বড় যুদ্ধবিমান পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম, যা কমান্ডারদের জন্য বিস্তৃত সামরিক সক্ষমতা প্রদান করে বলে জানান সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা ব্রেন্ট স্যাডলার।
গত জুনে ভার্জিনিয়া ত্যাগ করার পর ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগর ও নরওয়ে হয়ে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পৌঁছে। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা অভিযানে অংশ নিতে এটি সেখানে মোতায়েন করা হয়, এরপর মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য সংঘাতে সহায়তার জন্য দ্রুত স্থানান্তরিত হয়ে ইরান যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেয়। সবশেষে এই মাসের শুরুতে আটলান্টিক পেরিয়ে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু করে রণতরীটি।
Posted ৪:১২ এএম | রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।