রবিবার ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

চীনের সমর্থন পাচ্ছে মিয়ানমারের ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন

বিশ্ব ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   89 বার পঠিত

চীনের সমর্থন পাচ্ছে মিয়ানমারের ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন

মিয়ানমারে সামরিক শাসনের অধীনে নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। এর আগে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে প্রহসন বলছেন। কিন্তু প্রতিবেশী চীন যেন এই নির্বাচনের উৎসাহী সমর্থক হিসেবে হাজির হয়েছে।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি ও পিছু হটার সমঝোতা করাতে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতা সংঘাতের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের আগে জান্তা সরকারের অবস্থানও শক্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একসময় বিরোধী পক্ষগুলোকে সমর্থন দিলেও এখন চীন সামরিক সরকার ও তাদের নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। এর পেছনে মিয়ানমারে নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা- এমনকি দেশটির নেতৃত্ব পুনর্গঠনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যও থাকতে পারে।

উত্তরাঞ্চলের লাশিও শহর একসময় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই শহর দখলকে তাদের সাফল্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে বেইজিংয়ের হস্তক্ষেপে তা আবার জান্তার নিয়ন্ত্রণে ফিরে যায়। লাশিও শহরের এক বাসিন্দা (৩০) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা অনেকটা পারিবারিক বিষয়ে বাইরের কারো নাক গলানোর মতো ব্যাপার।

‘রাষ্ট্র ভেঙে পড়তে দেওয়া যাবে না’
প্রায় পাঁচ বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়। তারা অং সান সু চিকে আটক করে। অভিযোগ তোলে, নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে সু চি জয় পেয়েছিলেন। এ ঘটনার পর গণতন্ত্রপন্থী কর্মীরা অস্ত্র হাতে তুলে নেন। তারা জাতিগত সংখ্যালঘু বাহিনীর সঙ্গে একযোগে লড়াই শুরু করে।

সামরিক অভ্যুত্থানের শুরুতে চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত। তবে চীন-মিয়ানমার সীমান্তে অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রতারণার কেন্দ্রগুলোর ফাঁদে পড়েন অনেক চীনা নাগরিক। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই প্রতারণা দমনে জান্তা সরকারের ব্যর্থতা বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। পরে তারা বিদ্রোহীদের একটি যৌথ পক্ষকে সমর্থন দেয়।

জাতিগতভাবে সংখ্যালঘু তিনটি বাহিনীর জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে লাশিওসহ একাধিক এলাকায় নাটকীয়ভাবে সাফল্য পায়। লাশিও দখল ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা এটি ছিল একটি আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের কেন্দ্র।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক মর্গান মাইকেলস বলেন, বিদ্রোহীরা মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু তখনই বেইজিং ‘ব্রেক কষে’ পরিস্থিতি থামায়। এএফপিকে মর্গান মাইকেলস বলেন, বেইজিংয়ের নীতি হলো রাষ্ট্র ভেঙে পড়তে দেওয়া যাবে না। তাদের যখন মনে হলো- মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ভেঙে পড়তে পারে, তখনই তারা বিদ্রোহীদের ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করে।

নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস
মর্গান মাইকেল বলেন, চীন সামরিক সরকারকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ আছে। কারণ মিন অংয়ের নেতৃত্বে মিয়ানমার দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পড়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, মিন অংকে সরিয়ে দেওয়া বা তাঁর ক্ষমতা খর্ব করার মতো কিছু ঘটতে পারে।

অনেক পর্যবেক্ষকদের মতো জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ টম অ্যান্ড্রুস আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জান্তা বিরোধীরা ঘোষণা দিয়েছে, তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভোট ঠেকাবে। তাদের ভাষায় এই নির্বাচন সাজানো নাটক। এর মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং বেসামরিক পোশাক পরে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেতে চান।

সামরিক শাসনের আওতায় মিন অং একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধানের ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। মর্গান মাইকেলসের মতে, বেসামরিক শাসন ফিরলে মিন অংয়ের ক্ষমতা কিছুটা হলেও সীমিত হবে। তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদ অথবা সেনাপ্রধান- এই দুটির যেকোনো একটি বেছে নিতে হতে পারে।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবারের মতো গত মে মাসে মিন অং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর চীন ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ জোটকে দুর্বল করার উদ্যোগ নেয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকা দুটি গোষ্ঠীকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়ে জোট থেকে আলাদা করা হয়।

গত এপ্রিলে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি লাশিও শহরটি জান্তার হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পর অক্টোবরে তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া লাশিওর এক বাসিন্দা বলেন, এটি তাকে হতাশ করেছে। কারণ, তাঁর অনেক বন্ধু যুদ্ধে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। তারা আর ফিরবে না।

এএফপিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তাঁর দেশ মিয়ানমারের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা ও ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। পাশাপাশি দেশটির স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন পুনরুদ্ধারে সমর্থন দেয়।

নির্বাচন নিয়ে বিদেশি সমালোচনার জবাবে গত সপ্তাহে জান্তার মুখপাত্র জ মিন তুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আয়োজন করা হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, অংশীদার দেশগুলো নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা ও সমর্থন দিচ্ছে। মিয়ানমারের কল্যাণের স্বার্থে তারা এটি করছে।

Facebook Comments Box
×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Posted ৩:৫৮ পিএম | মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।