বিশ্ব ডেস্ক | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 5 বার পঠিত

গাজা পুনর্গঠন নিয়ে নতুন এক উদ্যোগ সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত বোর্ড অব পিসের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি দুবাইয়ের লজিস্টিক জায়ান্ট ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গাজার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ত্রাণ ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, মূলত সেটিই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের লজিস্টিকস দেখাশোনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো একটি কোম্পানিকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে ট্রাম্পের এই বোর্ড। তবে এই প্রক্রিয়ায় খোদ ফিলিস্তিনিদেরই গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে।
উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনায় গাজায় আধুনিক গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা, পণ্য পরিবহন পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মধ্যে গাজা উপত্যকায় অথবা পার্শ্ববর্তী মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে একটি সম্পূর্ণ নতুন সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। এমনকি ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের ভেতরে একটি বিশেষ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় খোদ ফিলিস্তিনিদেরই গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে। তারা অভিযোগ করছেন, জাতিসংঘসহ প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে এই পরিকল্পনা কার্যত ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ ভূমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়াকেই আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এমন একসময়ে এই আলোচনার খবর সামনে এলো, যখন গাজায় শান্তি প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে। ইসরায়েলি বাহিনী এখনও উপত্যকার বিশাল এলাকা দখল করে রেখেছে এবং গত অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও মানবিক ত্রাণের প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সীমিত।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সেই যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও সাত শতাধিক মানুষ নিহত এবং প্রায় দুই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা খসড়া প্রস্তাবের নথিতে দেখা গেছে, সেখানে একটি নিরাপদ ও শনাক্তযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম তৈরির স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র শিল্প এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে এই নথির প্রকৃত লেখক কে বা আলোচনা কতদূর এগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের একজন মুখপাত্র এই আলোচনার ব্যাপারে কোনো ধরনের তথ্য থাকার কথা অস্বীকার করেছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিদিনের বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংকের একটি যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে গাজা পুনর্গঠনে মোট সাত হাজার ১৪০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে আগামী ১৮ মাসেই দরকার অন্তত দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে শিশুসহ নিহত ২
অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশুসহ দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রামাল্লাহর কাছের আল-মুঘায়্যির গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীদের নির্বিচার গুলিতে ১৩ ও ৩২ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি নিহত এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনিদের তাড়াতে যৌন সহিংসতাকে ব্যবহার করছে ইসরায়েলি সেনারা
অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করতে ইসরায়েলি সৈন্য ও বসতি স্থাপনকারীরা যৌন হয়রানি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। গবেষকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ এমনকি শিশুদেরও জোরপূর্বক নগ্ন করা, যন্ত্রণাদায়কভাবে দেহ তল্লাশি এবং যৌন সহিংসতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে অতিষ্ঠ গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ
গাজায় বসন্তের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইঁদুর, মাছি এবং অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁবুতে বসবাসকারী লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।
স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় এই কীটপতঙ্গগুলো অস্থায়ী ঘরবাড়িতে হানা দিচ্ছে, শিশুদের কামড়াচ্ছে এবং খাবার নষ্ট করছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ২২ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা নিজ এলাকায় ফিরতে পারছেন না।
Posted ১:০৩ পিএম | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।