শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   348 বার পঠিত

রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি সাক্ষাৎকারের কিছু মন্তব্য নিয়ে রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অধিবেশনের ফাঁকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম জিটিওর সাংবাদিক মেহদি হাসানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের একটি অংশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইস্যুতে এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা যে কোনো সময় তুলে নেওয়া হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার এমন সাক্ষাৎকার গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এমন মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কেউ কেউ তীব্র ভাষায় সমালোচনাও করেন। মোদ্দা কথা, বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্য জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগ গণহত্যাকারী এবং গণদুশমন। যারা গুম করেছে, মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে, মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে নিয়ে নিজেরা সম্পদের পাহাড় গড়েছে; তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার ও ক্ষমা চাওয়া ছাড়া দলটির বিষয়ে কারও ব্যক্তিগতভাবে কিছু করার আছে বলে মনে করে না দলগুলো। এছাড়া নির্বাচনের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত বা বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো চিন্তভাবনা তাদের নেই। নিষেধাজ্ঞা যেটা আছে, সেটাই থাকবে।

অবশ্য সাক্ষাৎকারে ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা যে কোনো সময় তুলে নেওয়া হতে পারে’-এমন কথা প্রধান উপদেষ্টা বলেননি বলে জানিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আদতে বলেছেন, আওয়ামী লীগ ‘কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে না’। এমনকি আগামী নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবে না। তার ভাষায়, ‘দলটির বৈশিষ্ট্য দেখে এবং তারা যে পুরো নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে, সেই সম্ভাবনা বুঝে নির্বাচন কমিশন ভেবেছে যে, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়াই ভালো।’ স্পষ্টতার খাতিরে তিনি আরও বলেন, ‘অন্যথায়, আমরা নির্বাচন করতে পারব না।’

তবে একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টিকে তিনি ‘আপাতত’ বা ‘ফর দ্য টাইম বিয়িং’ বলতে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত’ কথাটা বুঝিয়েছেন। বাংলাফ্যাক্ট ইংরেজিতে সাক্ষাৎকারের ওই অংশটুকুও দিয়েছে। যার বাংলা অনুবাদ হুবহু তুলে ধরা হলো-

মেহদি হাসান : হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আপনার সরকার তার সাবেক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে, তাদের নিবন্ধন স্থগিত করেছে, কার্যত পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে তাদের নিষিদ্ধ করেছে। আপনার মতোই নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন, যিনি আপনাকে খুব ভালো করেই চেনেন, তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, এটা পূর্ববর্তী সরকারের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে, যারা ক্ষমতায় এসে তাদের বিরোধীদের নিষিদ্ধ করেছিল। আপনি কেবল সেই চক্রের পুনরাবৃত্তি করছেন। অমর্ত্য সেন ও অন্যদের এ ধরনের সমালোচনার কী জবাব দেবেন আপনি?

অধ্যাপক ইউনূস : এটা ভুল সমালোচনা। কারণ, আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি।

মেহদি হাসান : আমি বলছি, আপনি তো নিবন্ধন স্থগিত করেছেন?

অধ্যাপক ইউনূস : না, নিবন্ধন নয়। শুধু তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

মেহদি হাসান : এর অর্থ কী?

অধ্যাপক ইউনূস : এর অর্থ হলো, তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবে না।

মেহদি হাসান : তাহলে আপনি মূলত, আমি বলছি, তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না।

অধ্যাপক ইউনূস : না, না। দলটি এখনো আছে।

মেহদি হাসান : তারা কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?

অধ্যাপক ইউনূস : না, এখন পারবে না। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

মেহদি হাসান : ঠিক আছে, তাহলে এটা কীভাবে…তারা কি দল হিসাবে বৈধ?

অধ্যাপক ইউনূস : আচ্ছা, তারা দল হিসাবে বৈধ, তবে এখন কার্যক্রম স্থগিত। যে কোনো সময় এর কার্যক্রম চালু করা হতে পারে।

মেহদি হাসান : আপনি বলতে চাচ্ছেন, আপনি স্থগিতাদেশ তুলে নিতে পারেন?

অধ্যাপক ইউনূস : স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া, এটা একটা সম্ভাবনা।

মেহদি হাসান : তাহলে আপনি দলটিকে নিষিদ্ধ করেননি। আপনি শুধু বলেছেন, এখনকার জন্য তোমরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছ না।

অধ্যাপক ইউনূস : এটা ঠিক।

মেহদি হাসান : কিন্তু একটি গোষ্ঠীর মানুষকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করাটা কতটা গণতান্ত্রিক?

অধ্যাপক ইউনূস : দেখুন, নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এটা করেছে দলটির চরিত্র ও সম্ভাবনা দেখে যে তারা পুরো নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই তারা ভেবেছে, এটা (আওয়ামী লীগের) না করাই ভালো…।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৩৭ এএম | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।