শুক্রবার ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

সরকারের কি কিছুই করার নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৪ জুলাই ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   228 বার পঠিত

সরকারের কি কিছুই করার নেই

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত অঞ্চল এক বিভীষিকাময় বাস্তবতার মুখোমুখি। স্থলমাইন বিস্ফোরণ সেখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত সাড়ে আট বছরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, দোছড়ি, সদর এবং রুমার রেমাক্রীপ্রাংসা ইউনিয়নে অন্তত ৫৭ জন মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন নিহত এবং ৪৪ জন পা হারিয়েছেন। সীমান্ত এলাকাটির জন্য এটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূলত ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকেই সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। একসময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সীমান্ত অঞ্চল ২০২৩ সাল থেকে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) দখলে চলে যাওয়ার পর মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা আরও বেড়ে যায়। আর এর শিকার হয়ে পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অক্ষম হয়ে যাওয়ায় পরিবার যেমন ভুগছে, সেসব ব্যক্তিও হয়ে পড়ছেন পরিবারের বোঝা।

বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মাইন বিস্ফোরণ সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে হচ্ছে। বিজিবির টহল ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার কারণেই লোকজন হতাহত হচ্ছেন। সীমান্ত এলাকার মানুষকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। মিয়ানমার যেহেতু জাতিসংঘের মাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে অনুস্বাক্ষর করেনি, তাই তাদের মাইন ব্যবহারে জবাবদিহির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আগে বিজিপির সঙ্গে প্রতিবাদ ও আলোচনার সুযোগ থাকলেও এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণের কারণে সেই সুযোগও নেই।

শুধু মানুষের দায়ের বিষয়টি স্পষ্ট করে এ সংকট মোকাবিলা করা কীভাবে সম্ভব? সীমান্ত এলাকার নিরীহ ও দরিদ্র মানুষ ঝাড়ুফুল কাটতে গিয়ে বা পেটের তাগিদে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যাচ্ছেন, তাঁদেরকে সে কাজ থেকে কীভাবে রোধ করা যায়, তাঁদের কর্মসংস্থান বা জীবন–জীবিকা নিশ্চিত করার বিষয়টিও ভাবতে হবে। গরিব মানুষগুলোর এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে যারা, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরাম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বিষয়টি নিয়মিত তুলে যেতে হবে।

কার্যকর ও তৎপরমুখী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আর যেসব পরিবার মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শুধু সতর্ক করলেই হবে না, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাঁদের বেঁচে থাকার অবলম্বন জোগাতে হবে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে এবং তাঁদের বিকল্প আয়ের উৎস সৃষ্টিতে সহায়তা করতে হবে। এর জন্য সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় সব মহলের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box
×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Posted ৪:৫০ পিএম | শুক্রবার, ০৪ জুলাই ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।