নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 257 বার পঠিত

রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায় আধা ঘণ্টার ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে সাত শতাধিক বাড়িঘর, গাছপালা ও জমির ফসল। খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন একাধিক গ্রাম। গৃহহীন পরিবারগুলোর খাদ্য-আবাসন সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। সাত জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তাদের মধ্যে কুমিল্লার হোমনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ তিন, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসাছাত্রসহ দুই, বগুড়ার গাবতলীতে গৃহবধূ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্কুলছাত্র, গাইবান্ধার সাঘাটা, নওগাঁর রাণীনগর ও ঝিনাইদহে চার কৃষক রয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
রংপুর গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাট : ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার কয়েকটি গ্রামের প্রায় সাড়ে সাত শতাধিক বাড়িঘর, গাছপালাসহ জমির ফসল। দোকানপাটের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনার টিনসহ বিভিন্ন অংশ প্রায় এক কিলোমিটার পার্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গৃহহীন দুর্গত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে।
তীব্র এ ঝড়টি আঘাত হেনেছে রোববার সকাল ৭টার দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত নোহালী ও আলমবিদিতর ইউনিয়নে। এর পরে সকাল ৮টায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট এ ঝড়ের তাণ্ডব চলে।
এ সময় আলমবিদিতর ইউনিয়নের বাগডহরা, বৈরাতি, পূর্ব কচুয়া, পশ্চিম কচুয়া, নোহালী, চর নোহালীসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় সাড়ে চার শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ভেঙে পড়ে বিপুল পরিমাণ ফলদ ও বনজ গাছ। মাটিতে নুয়ে পড়ে ধান খেত। বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ গাছপালা উপড়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাতটি গ্রাম।
নোহালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, অবিরাম বৃষ্টিপাতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির লোকেরা নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন। রান্নাঘর ও শুকনো জ্বালানির অভাবে তারা রান্না করতেও পারছেন না। ফলে পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যাভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। তাই জরুরিভাবে খাদ্য ও আবাসন সহায়তা প্রয়োজন। বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। দুই জন ভেঙে পড়া গাছের ডালের আঘাতে আহত হয়েছেন। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আলমবিদিতর ইউপি সদস্য রেজাউল হক বলেন, খামার মোহনা, কুতুব পাড়া, কুতুব গণেশসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে গেছে। জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘর চাপা পড়ে এক কৃষকের দুটি গরু মারা যায়। এ ছাড়া অনেকে আহত হয়েছেন। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় এসব এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম বলেন, দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্য সহায়তা হিসাবে শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।
গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলায় ভোটমারী ইউনিয়নের উপর দিয়ে সকাল ৮টায় বয়ে যাওয়া ঝড়ের কয়েকটি গ্রামে শতাধিক বাড়িঘর, ঘাছপালা ভেঙে গেছে। জমির ফসল তছনছ হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন তিনজন। আহতরা হলেন বাদশা মিয়া, মামুদ মিয়া ও শহিদুল ইসলাম। তাদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, মধ্য শ্রুতিধর ও চর নোহালী গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঝড়ের বিষয়ে আগাম কোনো কিছু জানা যায়নি। ঝড়টির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। আমাদের রাডার সিস্টেম এ স্টেশন সংখ্যার প্রয়োজন ২০টি হলেও আছে ছয়টি। তাই কাভার করা সম্ভব হয় না।
কুমিল্লা : হোমনায় বজ পাতে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকালে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের খেয়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটেছে। মৃতরা হলেন-উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের নালা দক্ষিণ এলাকার মতিউর রহমানের মেয়ে মমতাজ বেগম, জাকিয়া আক্তার ও খোদা দাউদপুরের ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. রাশেদ। উজানচর-ঘাগুটিয়া খেয়া ঘাটে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষা থাকাকালীন এ বজ পাত হয়।
কুড়িগ্রাম : নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর এলাকায় রোবাবর দুপুরে মাদ্রাসা থেকে ফেরার সময় বজ পাতে মোহাম্মদ বাবলু মিয়া নামে শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই এলাকার নূর হোসেনের ছেলে ও স্থানীয় এবতেদায়ী মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। এ ছাড়া উপজেলার বামনডাঙা ইউনিয়নের চর লুচনি গ্রামে ঘাস কাটতে গিয়ে সহিবর নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
বগুড়া : গাবতলীতে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ পাতে শেফালী বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের মধ্যমারছেও গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গাবতলী থানার ওসি সেরাজুল হক এ তথ্য দিয়েছেন। শেফালী ওই এলাকার দেলোয়ার হোসেন প্রামাণিকের স্ত্রী।
সাঘাটা (গাইবান্ধা) : সাঘাটা উপজেলায় মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ পাতে আব্দুল আজিজ মিয়া নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীঘলকান্দী গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। রোববার দুপুর পৌনে ১২টায় উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দীঘলকান্দী চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রাণীনগর (নওগাঁ) : রাণীনগরে মাঠে গরু চরানোর সময় বজ পাতে তাহের নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কৃষ্ণপুর সরদারপাড়ার আশরাফ মন্ডলের ছেলে। রোববার সকালে উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরে কৃষ্ণপুর মাঠে এ ঘটনাটি ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ : আড়াইহাজারে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের উলুকান্দি গ্রামে রোববার দুপুরে মাঠে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর সময় বজ পাতে স্কুলছাত্র ওয়াসিমের মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের দিলা মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
ঝিনাইদহ : রোববার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আড়মুখ এলাকায় মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ পাতে মারা যান শিমুল বিশ্বাস। এ ছাড়া শৈলকুপা উপজেলার শেখরা গ্রামের মাঠে মারা যান হুরমত আলী মোল্লা।
Posted ৪:১৩ এএম | সোমবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।