এন এস এম মঈনুল হাসান সজল | শুক্রবার, ০৫ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | 208 বার পঠিত

” বাবু যত বলে পরিষদ দল বলে তার শতগুণ।” – দাসত্ব মনোবৃত্তির এক অনন্য প্রকাশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই বিঘা জমি কবিতায়। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় তোষামোদ একটি বড় যোগ্যতা বা বলা যায় তোষামোদি একালে জনাবদের জন্যও যোগ্যতার মাপকাঠি। আর এ যোগ্যতা না থাকা মানুষের পরিণতি হিসাবে বলা যায় কবি গুরুর একই কবিতার শেষ লাইনটি- “এই ছিল মোর ঘটে– তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!”। আত্মসম্মানহীন বা ব্যাক্তিত্বহীন বা অযোগ্য ব্যাক্তি মাত্রই বিকিয়ে দেয়ার নেশায় বুদ। কারণ তার পাবার নেশা আর আর যোগ্যতার মাত্রা বিপরীতমুখী। রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সমাজ কিংবা কর্ম ক্ষত্রে দেখতে পাওয়া যায় অনেক সিজনাল প্রেমিক। সময়, সুযোগ, দিবস বা উপলক্ষে বুঝে যে পরিমান আলোড়ন জেগে ওঠে, তা স্বাভাবিক জীবন ভাবনা থেকে বহু ক্রোশ দূর। উচ্চপদস্তুর সন্তুষ্টি অর্জনে যেখানে শক্তি, বিদ্যা, ধন-কৌশল কোনো কিছু কাজে আসে না, সেখানে তেল বেশ কাজে করে চূড়ান্ত ভাবে।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, তৈলবাজরা বরাবরই প্রাধান্য বিস্তার করতে সক্ষম। যারা উচিত কথা বলেন এবং ঔচিত্যবোধে অটল তাদের প্রায়ই বিপদ ও ঝামেলায় পড়তে হয়। বাঙালিদের মধ্যে তৈলবাজদের বাড়-বাড়ন্ত দেখে পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছিলেন, ‘‘কিন্তু খুবই পরিতাপের বিষয়, সমাজ রূপান্তরের পরিক্রমায় ‘তেল’ শব্দটির প্রয়োগ নেতিবাচক অর্থে প্রচলিত হয়েছে। কেননা, মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনে যেখানে শক্তি-বিদ্যা ধন-কৌশল প্রভৃতি কোনো কাজে আসে না, তখন ‘তেল’ বেশ কাজ দেয়। ‘তেল’ শব্দটির এখানে তাৎপর্যগত অর্থ দাঁড়ায় মিথ্যা প্রশংসা বা লোক দেখানো স্তুতি। তার মানে, স্নেহ বা শ্রদ্ধা তার চরিত্র হারিয়ে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করলে তা ‘তেল’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। …বাস্তবিকই ‘তেল’ সর্বশক্তিমান। …যে সর্বশক্তিময় ‘তৈল’ ব্যবহার করিতে জানে, সে সর্বশক্তিমান। তাহার কাছে জগতের সব কাজই সোজা, তাহার চাকরির জন্য ভাবিতে হয় না- উকিলিতে প্রসার করিবার জন্য সময় নষ্ট করিতে হয় না, বিনা কাজে বসিয়া থাকিতে হয় না, কোনো কাজেই শিক্ষানবিস থাকিতে হয় না। যে ‘তৈল’ দিতে পারিবে তাহার বিদ্যা না থাকিলেও সে প্রফেসর হইতে পারে, আহাম্মক হইলেও ম্যাজিস্ট্রেট হইতে পারে, সাহস না থাকলেও সেনাপতি হইতে পারে এবং দুর্লভরাম হইয়াও উড়িষ্যার গভর্নর হইতে পারে।’’
তোষামোদ সকল প্রশাসককে বিভ্রান্ত করে। ফলাফল এমন সকল সিদ্ধান্ত আসে, যা সমাজ, জাতি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য কল্যাণকর হয়না, বরং ক্ষতিকর হয়। অধিকাংশ প্রশাসক যাদের শেষ পরিণতি মর্মান্তিক হয়েছে, তাদের এই সর্বনাশের জন্য চাটুকার আর তোষামোদকারীরাই দায়ী। যেসব ব্যক্তি ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেন তারা অনুগত ব্যক্তিদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকতেই পছন্দ করেন। আর এসব অনুগত ব্যক্তির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির গুণকীর্তন করা এবং তিনি কোনো ধরনের ভুল করতে পারেন না- এমন ধরনের মনোভাব তার হৃদয়ের গভীরে স্থাপন করে দেয়া। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, নেতা, রাজা-বাদশা, প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি পর্যায়ের ব্যক্তিরা এমন এক কুঠুরিতে আসন গাড়েন যেখানে সমালোচকদের প্রবেশাধিকার ক্ষীণ। ফলে এদের একই ধরনের কথা বারবার শুনতে হয়। একই কথা বারবার শোনার ফলে তারা ওই কথার মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে যান। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো ভিন্ন আদলে দেখার সুযোগ আছে, এরকম কোনো ভাবনা তাদের মনের কোণে ঠাঁই পায় না। একের পর এক বিভ্রান্তিকর সুখের যন্ত্রণা তাদের অন্ধ করে ফেলে। ফলে ক্রমপুঞ্জীভূত ভুলের পাহাড় ক্রমাগতভাবে উচ্চ থেকে উচ্চতর হয়ে ওঠে। তারা এভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন নিজের বোধ থেকে এবং এক সময়ে তাদের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।
গণতন্ত্র ব্যবস্থা সমাজ ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে থাকা উচিত। বলা হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মুক্ত গণমাধ্যম ক্ষমতাধরদের ভুল-ভ্রান্তিগুলো প্রকাশ করে দেয়। শুধু প্রকাশই করে না, সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে সে সম্পর্কেও আলোকপাত করে। উচ্চপর্যায়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা যদি গণমাধ্যমের এসব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন, তাহলে তাদের পক্ষে ভুলভ্রান্তি শুধরে নেয়া সম্ভব হয়। কিন্তু যদি গণমাধ্যমকে পোষ মানতে বাধ্য করা হয় অথবা ভয়াবহ সব আইন-কানুনের বেড়াজালে আবদ্ধ করা হয় তখন গণমাধ্যমও হক কথাটি বলতে পারে না। এরকম পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। একই বাস্তবতা হোক তা কর্ম ক্ষেত্র, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র ব্যবস্থা।
মনে রাখা জরুরী, কোনো বিশাল ব্যক্তিত্বের মুখোশ পরলেই সেই ব্যক্তিত্বকে অন্তরে ধারণ করা হয় না। বরং এ ধরনের সুরুচিবর্জিত কাজ সেই ব্যক্তিত্বকে খেলো করে ফেলে। মুক্ত চিন্তা গড়ে ওঠার পথে আরও অনেক রকম বাধা আছে। আমি গণ মাধ্যমের উদহারণই টানতে চাই। যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট মতবাদে বিশ্বাসীদেরই গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেয়া হয় তাহলে এরকম গণমাধ্যম থেকে ভিন্ন ধরনের কোনো মতবাদ, মন্তব্য এবং সংবাদও পরিবেশিত হবে না। শাসকরা যে রকমটি পছন্দ করেন, সে রকমভাবেই সবকিছু পরিবেশিত হবে। একই বাস্তবতায় আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ কিংবা কর্ম ক্ষেত্র।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে চামচামি বা তোষামোদ একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান। চামচামি ছাড়া রাজনীতি সে তো অসম্ভব বিষয়। নেতা যত বড় এবং ক্ষমতাধর তার চামচাও তত বেশি। চামচা ছাড়া নেতা চলতে পারেন না, নেতার মর্যাদাও যেন বাড়ে না। চামচা তার চামচামির প্রমাণ করে সে বা তিনি কত বড় নেতা। আবার চামচামি না করে নেতাও হতে পারবে না। বড় নেতাদের তোষামোদি ছোট নেতা হবার পূর্ব শর্ত। অতঃপর একদিন খরগোশকে দেখা যাবে বাঘ হিসাবে।হাইব্রিড শুধু ফলনেই যে আছে এমন নয়। রাজনীতিতেও হাইব্রিড আছে। ক্ষমতায় থাকা দলে হঠাৎ যুক্ত হয়ে কাকা করতে পারলেই বড় বড় পদ। এছাড়া ক্ষমতাসীনদের প্রতি বুদ্ধিবৃত্তিক তোষামোদি অবৈধ আর অনৈতিক সুযোগ গ্রহণের উত্তম হাতিয়ার। এক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণীর তোষামোদীরা নেতার প্রশংসা করে জাতীয় পত্রিকায় দু কলম লেখে দিলেন, দ্বিতীয় শ্রেণীর তোষামোদীরা হয়তো পোস্টার আর টকশো, তৃতীয় শ্রেণীর তোষামোদীরা মিছিল আর চায়ের টেবিল। তবে এখানে কমন বিষয় হচ্ছে- চাপাবাজি, এটাই চামচার প্রধান অস্ত্র। চাপাবাজি করে সে নেতার মনোযোগ আকর্ষণ করে। নেতা খুশি থাকলে, চামচার পদ-পদবি আর উন্নতি ঠেকায় কে? বিনা পুঁজিতে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা সম্ভব শুধুই ক্ষমতাসীন নেতার চামচামি করে। যোগ্যতা না থাকলেও বেগ পেতে হবে না চাকরি পেতে, অভিজ্ঞতা না থাকলেও ঊর্ধ্বতন বসের চামচামি করে প্রমোশন বাগিয়ে নেয়া যাবে সহজে। এমনকি জায়গামতো চামচামি করতে পারলে, চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক মেয়াদও বাড়ানো সম্ভব। চামচামি করে টেন্ডারে কাজ পাওয়া, রডের বদলে বাঁশ দিয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, এমনকি চাপাবাজি ও চামচামির দ্বারা নেতাকে পুরোমাত্রায় গলাতে পারলে, কাজ না করেও বিল উত্তোলনে সমস্যা হবে না। অল্প দিনে হাজার কোটি টাকার মালিক। আমেরিকায়, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম। চোখ ধাঁধাঁনো বক্তৃতা, বিবৃতি, আর বিশাল কিছু বনে যাওয়া । মিডিয়া টকশো দেবে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা। ফাইনালি পাবলিক ফিগার। এই চেহারা যে শুধু রাজনীতিতে বিষয়টা এমন নয়। সমাজের প্রতিক্ষেত্রে একই রূপ। হোক তা রাষ্ট্র, সমাজ কিংবা কর্ম ক্ষেত্র। যোগ্যতা থাক বা না থাক শুধু চামচামির বদৌলতে অর্জিত অর্থ আর অবস্থান দেবে ওমুককে দল বা সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান, তমুককে মহানগর সভাপতি। এই চামচাদের মধ্যেও চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। চামচে-চামচে ঝংকার কানের পর্দা ফাটে সভ্যতার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা সাধারণত তেল খাওয়ার অভিযোগ করেন। আর শিক্ষার্থীরাও পরস্পরকে ‘তেলবাজ’ আখ্যা দিতে পছন্দ করেন। কোন শিক্ষকের সাথে কোন শিক্ষার্থীর ভাল ‘যোগাযোগ’ বা পরিচিতি না থাকলে, কারণে-অকারণে তাকে ফোন না করলে নাকি তার কোর্সে ভাল নম্বর পাওয়া যায় না। একই নোট পড়ে একই রকম পরীক্ষা দিয়েও নম্বরের আকাশ-পাতাল ব্যবধান নাকি এই ‘যোগাযোগে’র কারণেই হয়ে থাকে। একই বাস্তবতা চলে কর্মক্ষেত্রে, বসের সাথে বেশী যোগাযোগ বা সক্ষতাই দেবে বাড়তি কিছু পাবার নিশ্চয়তা।
একশ্রেণীর বর্ণবাদী গোষ্ঠী তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের হালুয়া-রুটির আশায় যেভাবে চামচামি করতেন, তা দেখে কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-
“সাহেব কহেন, ‘চমৎকার! সে চমৎকার!’
মোসাহেব বলে, ‘চমৎকার সে হতেই হবে যে! হুজুরের মতে অমত কার?’
সাহেব কহেন, ‘কী চমৎকার, বলতেই দাও, আহা হা!’
মোসাহেব বলে, ‘হুজুরের কথা শুনেই বুঝেছি, বাহাহা বাহাহা বাহাহা!’
উচ্চাকাঙ্খা বাস্তবায়নে ব্যক্তিমাত্রই সচেষ্ট হয়; কেউ সফল হয়, কেউ হয় না। গন্তব্যে পৌঁছার পথ-পন্থা-পদ্ধতি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। অনেকে পরিশ্রম, ধৈর্য, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের কথা বলেন। পরিশ্রম ও অধ্যবসায় অনেক আয়াস ও কষ্টলব্ধ বিষয়। ধৈর্য ধরারও ‘ধৈর্য’ অনেকের থাকে না। আর আত্মবিশ্বাস তো সাফল্য ও নিজের সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণার ফলশ্রুতি। কিন্তু সাফল্য তো পেতেই হবে। তাই সাফল্য পেতে অনেকে সহজ পদ্ধতির সন্ধান করেন। (অবশ্য সহজ পন্থায় কার্যসিদ্ধি হলে পরিশ্রম ও কষ্টের পথে না যাওয়াই জ্ঞানীর কাজ। কিন্তু বড় কোন কাজ বা জীবনে সাফল্য সহজে এসেছে এমন দৃষ্টান্ত দুর্বল।) তাই অনেকে শর্টকাটে জীবনে উন্নতি করতে চান। তোষামোদ এদের বাতলে নেয়া এমনই এক পদ্ধতি।
আমাদের ধার্মিক ব্যাক্তিদের জন্য বলতে চাই, পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা নিজেরা যা করেছে (অযাচিত কর্ম) তাতে আনন্দিত হয় এবং নিজেরা যেসব কাজ করেনি সেসব কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে, তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে- আপনি এরূপ কখনো মনে করবেন না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ সুরা আলে ইমরান : ১৮৮
দার্শনিক ডায়োজেনিসের আমলে রাজা ছিলেন, ডেনিস। রাজাকে তোষামোদ করতেন না বলে ডায়োজেনিসের জীবন ছিল অত্যন্ত ভোগবিলাসহীন। জীবনযাপন করতেন একেবারে সাধারণ মানুষের মতো। কিন্তু তাঁর সমসাময়িক অ্যারিস্টিপাস নামের আরেক দার্শনিক রাজাকে তোষামোদ করতেন বলে মালিক হয়েছিলেন প্রচুর বিত্তবৈভবের। একদিন খাওয়ার সময় ডায়োজেনিসকে শুধু শাক দিয়ে রুটি খেতে দেখে অ্যারিস্টিপাস ব্যঙ্গ করে বললেন, ‘আপনি যদি রাজাকে তোষামোদ করে চলতেন, তাহলে আজ আর আপনাকে শুধু শাক দিয়ে রুটি খেতে হতো না।’ জবাবে ডায়োজেনিস হেসে বললেন, ‘আর আপনি যদি শাক দিয়ে রুটি খাওয়া শিখতেন, তাহলে আজ আর আপনার রাজাকে তোষামোদ করে চলতে হতো না।’ তোষামোদ সবসময় ক্ষমতা বা অর্থের পিছু নেয়। কারও ক্ষমতা বা অর্থ ফুরালে তোষামোদকারীও আর তার ছায়া মাড়ায় না। প্রতিষ্ঠান, সমাজ বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যখন এর শিকার হন, তখন তারা আমোদে গদগদ হন। আর নিজের দুর্বলতা, ব্যর্থতা বা অযোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক ও সম্যক ধারণা না থাকার কারণে প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের ক্ষতি বয়ে আনেন।
সততা, উদারতা, পরিশ্রমপ্রিয়তা, পরোপকারিতা, বিনয় প্রভৃতি গুণাবলির মধ্যে ব্যক্তির মত একটি জাতির জন্য সবচেয়ে গর্ব করার মত গুণ হতে পারে এই-আত্মসম্মানবোধ। যে মা তার সন্তানের ভেতর এই একটিমাত্র গুণ জাগিয়ে তুলতে পারেন, পেরেছেন; ওই মায়ের মত দেশও তার এমন নাগরিক নিয়ে গর্ব করতে পারে। যে নিজেকে সম্মান করতে জানে না, ভালবাসতে শেখে নি; সে অন্যকে সম্মান করবে, ভাল বাসবে কিভাবে? হাটি হাটি পা পা করে হলেও আত্মসম্মানবোধ নিয়েই ‘বড়’ হতে হয়। যারা বলেন, তোষামোদ করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে ‘বড়’ হয়ে নিই পরে আত্মসম্মানবোধের দিকে খেয়াল করব; তাদেরকে বলব, মানুষ তার অভ্যাসের বাইরে যেতে পারে না।
সত্য হচ্ছে, তোষামোদ এবং আত্মসম্মানবোধ একসাথে চলে না। তাই তোষামোদকারী ব্যক্তি তার আত্মসম্মানবোধকে বিসর্জন দিয়েই অগ্রসর হয়। আত্মসম্মানবোধ হল ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক দিক যার জন্য ব্যক্তি গর্ব করতে পারে, ব্যক্তি অন্যের থেকে নিজেকে আলাদা মনে করতে পারে। নিজেকে বড় মনে করা এবং অন্যকে ছোট মনে না করাই আত্মসম্মানবোধ। ‘ইগো’র সাথে এর একটি সূক্ষ পার্থক্য রয়েছে। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি কখনও অন্যায় করতে পারে না। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি দারোয়ান হলেও বস তাকে সম্মান করতে বাধ্য। আত্মসম্মানবোধহীন বসকে দারোয়ানও সম্মান করে না। উল্লেখ্য, চোখের সামনে ভয় পাওয়া আর মন থেকে সম্মান এক নয়। আর যোগ্যতায় যে সামান্য প্রাপ্তির সুখ তা দাসত্ব মনোবৃত্তি সম্পন্ন অবুঝদের জন্য নয়।
Posted ৭:২২ এএম | শুক্রবার, ০৫ জুলাই ২০২৪
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | NSM Moyeenul Hasan Sajal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।