রাজনীতি ডেস্ক | শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 1 বার পঠিত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, টালবাহানা করে জুলাই সনদকে এড়িয়ে যেতে চায় সরকার। গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী অবিলম্বে সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন করতে হবে। এ নিয়ে কোনো ছলচাতুরী দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতেই সাংবিধানিক সংস্কার হতে হবে।
শনিবার দুপুরে গুলশানে একটি হোটেল ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। দলের সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এ সভার আয়োজন করে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় আসার পর তারা এর বিরোধিতা করছে। এর মাধ্যমে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রত্যাখ্যান করছে।
সংলাপে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকারি দল এরই মধ্যে সংস্কার প্রশ্নে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। তারা জুলাই সনদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্যে একটি মিথ্যা বাইনারি তৈরি করেছে। এখন বিতর্কটি হচ্ছে, সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়িত হবে। এ বিতর্ক ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছিল। নির্বাচনের আগে আমরা ভেবেছিলাম, আমরা একটা চুক্তি করেছি, জুলাই সনদ হয়েছে, একটা নির্বাচন ও গণভোটের দিকে যাওয়া হচ্ছে।’
বিএনপি নির্বাচনের জন্য সংস্কারের বিষয়ে আপস করেছিল—সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এ বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সে কারণে সে সময় তাঁরা জুলাই সনদ ও সংস্কার কমিশনের সবকিছু গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের প্রধান উদ্বেগ ছিল নির্বাচন, সংস্কার নয়। এখানে দুটি বিষয় রয়েছে। একটি হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু কী, কোন সংস্কার আমাদের দরকার। আর দ্বিতীয়ত, কীভাবে এর বাস্তবায়ন হবে। সরকার একটি সাধারণ সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কার করতে চাইছে। কিন্তু আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ চাই।’
সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ জরুরি বলে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, ‘এখন আমরা কিছু প্রধান মৌলিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। যেমন উচ্চকক্ষের গঠন, যা সংবিধান সংশোধনে ভারসাম্য তৈরি করবে। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়োগ, দুদক ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ—এসব বিষয়কেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
কূটনীতিকদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নে তাঁরা কোনো অস্থিতিশীলতা চান না। তাঁরা এখনও আশা করছেন যে আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়ে একটি সমাধানে যাওয়া সম্ভব হবে। বল এখন সরকারের কোর্টে। তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কীভাবে পরিস্থিতি ম্যানেজ এবং প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়। কারণ সংস্কার কোনো দলীয় এজেন্ডা বা ধারণা নয়। এটা শুধু এনসিপি বা অন্য কোনো দলকে সাহায্য করবে না। আমাদের জাতীয় পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের জন্যই সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে। সরকার ইতিবাচক সাড়া না দিলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।
উন্মুক্ত আলোচনায় ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই), ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই), নরওয়ে দূতাবাস, সুইডেন দূতাবাস, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও ডেনমার্ক দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বেশির ভাগেরই বক্তব্য ছিল, তাঁরা মূলত এনসিপির নেতাদের কথা শুনতে এসেছেন।
সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. আবদুল আলীম, নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাসরুর সংলাপে কথা বলেন। এনসিপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান। সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। এ সময় মঞ্চে আরও ছিলেন সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেত্রী মাহমুদা আলম মিতু এবং দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন।
Posted ১০:২৫ এএম | শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।