জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বহুল প্রত্যাশিত ‘চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’ বা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নতুন গতি পেয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং অন্তত এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নতুন নয়। ২০১৪ সালে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে আনোয়ারা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণও শুরু হয়েছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘ সময় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ বছর পর বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রকল্পটি আবারও বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নিকটবর্তী হওয়ায় আনোয়ারার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সমুদ্রবন্দর সংযোগ এবং রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের সুবিধার কারণে চীন এই অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে আগ্রহী।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে চীনের আগ্রহ রয়েছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটি সেই বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনারই অংশ।
প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের জন্য স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড কোং লিমিটেড’-এর সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বেজা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এখানে চীনা উদ্যোক্তারা বস্ত্র, তৈরি পোশাক, ওষুধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, মোবাইল ফোন, জুতা, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে এবং রপ্তানি আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় চার লেনের সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার বর্জ্য শোধনাগার, ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন, জলাধার এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে চীন সরকার এবং অবশিষ্ট অর্থ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এত বড় শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে আনোয়ারা ও আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। নির্মাণ ও পরিচালনা পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, আবাসন, পরিবহন ও সেবা খাতেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
Posted ১০:৩৭ এএম | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।