নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 236 বার পঠিত

সুনির্দিষ্ট একটি নয়, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়নে সরকারের কাছে একাধিক সুপারিশ যাবে। এসবের মধ্যে থাকবে সংবিধান আদেশ জারি, নির্বাচনের দিনে গণভোট এবং সুপ্রিমকোর্টের মতামত গ্রহণ অন্যতম।
শুক্রবার রাতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের বিষয় ছিল, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের কার্যকর উপায় ও পদ্ধতি চূড়ান্ত করা।
এ বৈঠকে অংশ নেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমএ মতিন, বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরিফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। এতে সভাপতিত্ব করেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
অংশগ্রহণকারীদের একজন বৈঠক শেষে যুগান্তরকে বলেন, ‘এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল কীভাবে জুলাই সনদ কার্যকর ও গ্রহণযোগ্যভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তার রূপরেখা তৈরি করা। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত গণপরিষদ গঠন, সংবিধান আদেশ জারি, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিমকোর্টের মতামত গ্রহণ এবং গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য রূপরেখা ও উপায় নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশপত্র জমা দেবে কমিশন।
জানা গেছে জুলাই সনদ চূড়ান্ত হলেও বাস্তবায়নের পদ্ধতি প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভিন্নতা আছে। এক্ষেত্রে সনদ বাস্তবায়নে সম্প্রতি নতুন প্রস্তাব সামনে আনা হয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার একটি ‘সংবিধান আদেশ’ জারি করতে পারে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এরপর আদেশটি নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট করা যেতে পারে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিএনপিসহ বেশ কিছু দল দ্বিমত জানায়। সংবিধানের সংশোধন বা সংবিধান আদেশ অন্তর্বর্তী সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ করতে পারবে কি না বা অন্য কোনো উপায়ে এটা করা যায় কি না, এ বিষয়ে সংবিধানের ১০৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিমকোর্টের মতামত চাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। আরও কয়েকটি দল সুপ্রিমকোর্টের মতামত চাওয়ার কথা বলেছে। তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপির এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সনদ বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন, সেটা জামায়াতের প্রস্তাবের কাছাকাছি। আর এনসিপি জানিয়েছিল, নিজেদের দলে আলোচনা করে পরে তাদের অবস্থান জানাবে।
সূত্র জানায়, বিশেষজ্ঞরা যে পদ্ধতির সুপারিশ করেছেন, তা কার্যকর হলে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সংবিধান আদেশ জারি ও কার্যকর করার পর গণভোটে যদি জুলাই সনদ পাশ না হয়, তাহলে কী হবে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাজনৈতিক দলগুলো যে সুপ্রিমকোর্টের মতামত চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনটি পদ্ধতির সমন্বয়ে কোনো উপায় বের করা যায় কি না, সেটি নিয়েও আলোচনা হয়।
এ অবস্থায় সনদ বাস্তবায়নে কমিশনের উপস্থাপন করা সুপারিশমালা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনার সারসংক্ষেপ বিশেষজ্ঞদের অবহিত করা হয়। আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত, পরামর্শ এবং উদ্বেগের দিকগুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সর্বশেষ একাধিক সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া কমিশনের পক্ষে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া। এছাড়া জাতীয় ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও উপস্থিত ছিলেন।
Posted ৩:৫৬ এএম | রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।