জাতীয় ডেস্ক | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 1 বার পঠিত

দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি গতকাল মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে এলএনজি সরবরাহসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, দেশের গ্যাস সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিঠি পাঠিয়েছেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথাও হয়েছে।
এদিকে টেলিফোনে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ফেসবুক পোস্টে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। এ ধরনের সহযোগিতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং উভয় দেশের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করতে সহায়ক হবে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো চিঠি মঙ্গলবার তাঁর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুপুরে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর দেশের পক্ষে যা যা করা সম্ভব, তা করা হবে। এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশকে জানানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। তবে বিকল্পের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই সংকট তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে মালয়েশিয়ার কাছে এটিও জানতে চাওয়া হয়েছে যে, চলমান সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানে দেশটি কোনো সহায়তা দিতে পারবে কিনা।
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কবে নাগাদ এর সুফল পাওয়া যাবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। মালয়েশিয়া সরকার কত দ্রুত সহায়তা দিতে পারবে, সে বিষয়েও তাদের মতামত চাওয়া হয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা যাবে। তিনি বলেন, এটি একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। একই সঙ্গে অন্য উৎস থেকেও গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান বলে মনে করছে সরকার।
দেশে গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে আবারও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গণপরিবহন– সব খাতেই এর প্রভাব পড়েছে। সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। এ সময় টার্মিনাল চালুর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল যৌথভাবে দিনরাত কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও পুরো বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ থাকা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী সপ্তাহে টার্মিনালটির পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দল এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
পেট্রোনাসের প্রস্তাব
দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাস। ক্রায়োজেনিক লরি ট্যাঙ্কার বা আইএসও কনটেইনার পদ্ধতিতে মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি এনে সরাসরি বাংলাদেশের শিল্পকারখানায় সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে স্বল্প সময়ে গ্যাসের সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে মনে করা হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর উচ্চ মূল্য। বর্তমানে শিল্পে সরকার প্রতি ইউনিট গ্যাস ৩১ টাকায় সরবরাহ করলেও পেট্রোনাসের প্রস্তাব অনুযায়ী আইএসও পদ্ধতিতে সেই গ্যাসের দাম পড়বে প্রায় ১০০ টাকা। সোমবার পেট্রোবাংলায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পেট্রোনাস এ প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে অতিরিক্ত দামের কারণে প্রস্তাবটি নিয়ে সরকার ও শিল্প মালিকদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তাই তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও যা বললেন আনোয়ার ইব্রাহিম
ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় আমরা পারস্পরিক স্বার্থে বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বাস্তবসম্মত সহযোগিতা এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে মালয়েশিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকট এবং দেশটির জরুরি চাহিদা মেটাতে পেট্রোনাসের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে সহযোগিতাসহ মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
Posted ২:০২ পিএম | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।