বিশ্ব ডেস্ক | রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 288 বার পঠিত

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং বা উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে টানেল। গত শুক্রবার ২২ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ তিয়ানশান শেংলি নামে টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। টানেলটি মধ্য তিয়ানশান পর্বতমালার নিচ দিয়ে চলে গেছে এবং এটি চীনের জি০৭১১ উরুমকি-উলি এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ, যা একই দিনে কার্যক্রম শুরু করেছে।
চীনের শীর্ষ গণমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, এই টানেলের মাধ্যমে পাহাড়ি দুর্গম পথে আগে যেখানে যাতায়াতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সেই দূরত্ব পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট। এক্সপ্রেসওয়েটি উত্তর ও দক্ষিণ শিনজিয়াংয়ের শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। উরুমকি এবং কোরলা শহরের মধ্যে ভ্রমণের সময় সাত ঘণ্টা থেকে কমে এখন মাত্র তিন ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
খবরে আরও বলা হয়, এক্সপ্রেসওয়েটি বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বেইজিং-তিয়ানজিন-হেবেই, ইয়াংজি রিভার ডেলটা এবং গুয়াংডং-হংকং-ম্যাকাও গ্রেটার বে এরিয়ার মতো প্রধান অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে যুক্ত করেছে।
করিডোরটিকে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক এলাকা এবং ইউরেশীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি বিস্তৃত পরিবহন সংযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে পাঁচ বছর। জি০৭১১ উরুমকি-উলি এক্সপ্রেসওয়েসহ ২০২০ সালের এপ্রিলে কাজ শুরু হওয়া গোটা প্রকল্পটি ৩২৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৪৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গোটা প্রকল্পের ১১ কিলোমিটার অংশে ১৪টি সেতু এবং ৫টি টানেল রয়েছে। যার ফলে সেতু ও টানেলের অনুপাত ৯০ শতাংশেরও বেশি।
সিনহুয়া আরও জানায়, তিয়ানশান শেংলি টানেলটি সর্বোচ্চ ১ হাজার ১১২ দশমিক ২ মিটার মাটির গভীরে অবস্থিত। এটি ১৬টি ভূতাত্ত্বিক ফল্ট জোন বা চ্যুতি এলাকা অতিক্রম করেছে। তীব্র ভূ-চাপ, শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি, পরিবেশগত নানা চাপ, তীব্র শীত এবং উচ্চ উচ্চতার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো করে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।
চায়না ডেইলি ডটকমের খবরে বলা হয়, বর্তমানে মাঝারি ও ভারী ট্রাক বাদে অন সব যানবাহন তিয়ানশান শেংলি টানেলসহ গোটা রুট ব্যবহার করতে পারছে। তবে এক্সপ্রেসওয়েটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করবে ১ জানুয়ারি থেকে। চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এই এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ করেছে।
চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী মিয়াও বাওদং জানান, দীর্ঘ জরিপ শেষে টানেলটির নির্মাণকাজে নকশা, নির্মাণ কৌশল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ইন্টেলিজেন্ট সলিউশনসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বিশ্বজুড়ে এ ধরনের ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর জন্য একটি মানদণ্ড বা রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
চীন ক্রমাগতভাবে প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের বেশ কিছু প্রকল্পে তার নজির দেখা যায়।
Posted ৩:২৪ পিএম | রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।