ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

আওয়ামী লীগের ভোটাররা নির্বাচনে কীভাবে থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   279 বার পঠিত

আওয়ামী লীগের ভোটাররা নির্বাচনে কীভাবে থাকবে

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে না পারলে দলটির সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে কি-না কিংবা পেলে কীভাবে পাবে- তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, কোনো একটি মতাদর্শের সবাইকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখলে সেই নির্বাচন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ হবে না এবং এ ধরনের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য দেশে নতুন সমস্যার সূচনা করবে।

আন্দোলনের মুখে গত বছর আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করে রেখেছে। পাশাপাশি দলটির নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক নৌকা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

একই সাথে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত দল হিসেবে নির্বাচনের অযোগ্য থেকে গেলে দলটির সমর্থক বা ভোটাররা কীভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে সেই প্রশ্ন এসেছে নির্বাচন কমিশনের এক মত বিনিময় সভাতেও।

সোমবার ওই সভাতে কমিশন এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও গত জুলাইতে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন অবশ্য এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন যে, তিনি আশা করেন দলটির সমর্থকগোষ্ঠী ভোটে অংশ নেবে।

অন্যদিকে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দল হিসেবে তারা অন্যায় করলে তার বিচার হবে ও দেশের আইন সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে বিএনপির নেতারা এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নিবে- এমন মন্তব্য করে এসেছেন বিভিন্ন সময়ে।

প্রশ্নটি উঠছে কেন?

আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের নির্বাচনি বিতর্কে কিংবা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে দেশের ভোটের রাজনীতিকে ‘আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোট’ হিসেবে বর্ণনা করতেন অনেকে।

এর কারণ হলো সংসদের আসন সংখ্যা যাই হোক মোটামুটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোতে দলটির ভোটের হার ছিলো কমপক্ষে ৩০ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত।

নির্বাচনের ফলের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন পেয়েছিলো এবং তাদের ভোট ছিলো প্রদত্ত ভোটের ৩০ দশমিক ১ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা ১৪৬টি আসন পেয়েছিলো।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছিলো। কিন্তু সেই নির্বাচনেও দলটি ৬২টি আসন পেলেও তাদের ভোট ছিলো ৪০ দশমিক ২ শতাংশ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে দলটি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিলো। সেবারের নির্বাচনে তাদের ভোট প্রাপ্তির হার ছিলো ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।

কিন্তু এবার যখন দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলো এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক স্থগিত করায় আগামী নির্বাচনে দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলেই মনে করছেন অনেকে।

সে কারণেই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে দলটির যে সমর্থকগোষ্ঠীর ধারণা অতীতের নির্বাচনের ফলগুলোতেও পাওয়া গেছে তারা কীভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে?

সোমবার নির্বাচন কমিশনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ কমিশনের উদ্দেশ্যে বলেছেন, …. আওয়ামী লীগের ভোটারদের তো আপনি বাদ দিতে পারবেন না। তারা তো দেশের নাগরিক। তারা যদিও অনুশোচনা করেনি, এখনো পর্যন্ত প্রায়শ্চিত্ত করেনি, অনুতপ্ত হয়নি। কিন্তু এরপরও তাদের বাদ দিয়ে তো নির্বাচনটা হতে পারে না।

ওই সভাতেই কেউ কেউ বলেছেন, সবাই ভোটে অংশ নিতে পারলে সংঘাতের আশঙ্কা কমবে এবং উৎসবমুখর নির্বাচন করতে হলে সেটি সবাইকে নিয়েই করতে হবে।

কমিশন থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য আসেনি।

Facebook Comments Box

Posted ৫:১৮ এএম | বুধবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।