বিশ্ব ডেস্ক | সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 3 বার পঠিত

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন বিজয়ের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। সোমবার রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি জয়ী হয়েছে ২০৬টিতে। বিপরীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৭৮ আসনে; এগিয়ে আছে ৩ টিতে। এতে প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ আসন ভবানীপুরে হেরে গেছেন। এ জয়ের মধ্য দিয়ে ৫০ বছর পর ভারতের কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য একই রাজনৈতিক দলের সরকার পাচ্ছে।
এবারের জয়কে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলায় পদ্ম ফুটেছে। অপরদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপির জয় অনৈতিক বলছে মমতা
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন চুরি করেছে। বিজেপি জালিয়াতি করেছে। নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপি কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমরা বারবার এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি।’
মমতা বলেন, ‘বিজেপির এই জয় অনৈতিক। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশে নির্বাচন কমিশন যা করেছে তা পুরোপুরি অনৈতিক। তারা জোরপূর্বক এসআইআর পরিচালনা করেছে। তারা অত্যাচার চালিয়েছে। তারা কাউন্টিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার করেছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’
বিজয় উল্লাস গেরুয়া কর্মীদের
এদিকে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হতেই কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। দেড় দশক আগে হুগলির সিঙ্গুর থেকে উত্থান হয়েছিল তৃণমূলের। সেই সিঙ্গুরেই তৃণমূল দুর্গের পতন ঘটিয়ে উত্থান হল বিজেপির। এই জয়ে বুলডোজার নিয়ে অভিনবভাবে আনন্দে মাতলেন মালদহের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে একাধিক ডিজে বাজনা এবং চলছে আবির খেলা। এমনকি দলটির রাজ্যসভার সংসদ সদস্যহর্ষবর্ধন শ্রিংলাকেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়।
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর আসনে জয়ী শুভেন্দু
বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর আসনে জয় পেয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর আসনে মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। শেষ হাসি হাসলেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু এবার ভবানীপুর ছাড়াও নন্দীগ্রাম আসনে নির্বাচন করেন। দুটি আসনেই জিতে গেলেন এই বিজেপি নেতা।
অন্যদিকে এবার একটিমাত্র আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা। হেরে যাওয়ায় এবার বিধানসভায় যাওয়া হচ্ছে না তাঁর।
মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার দিন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গণনাকেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছালে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসময় বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে চোর চোর’ স্লোগান দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
মমতা ও শুভেন্দুর মোবাইল নিয়ে নিতে বলল কমিশন
সাখাওয়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। মোবাইল নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি নেই। সূত্র জানায়, তাদের দুই জনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যতক্ষণ তারা বের হবে না ততক্ষণ ভোট গণনা হবে না। পরে মমতা নিজেই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। ফের শুরু হয় গণনা।
‘মানুষ যে রায় দেবে, সভ্য সমাজের উচিত তা মাথা পেতে নেওয়া’
ফলাফল নিয়ে বিকেলে বিকালে মুখ খোলেন মমতার ভাতিজা ও দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ‘মানুষ যে রায় দেবে, সভ্য সমাজের উচিত তা মাথা পেতে নেওয়া। এখনো গণনার অনেক সময় বাকি রয়েছে। আমি দলের কাউন্টিং এজেন্টদের বলবো তারা যেন গণনা কেন্দ্র ছেড়ে না বের হয়। তারা যেন ধৈর্য ধরে।’
পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রায় ২ হাজার ৯০০ এর বেশি প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর), অভিনেতা হিরন্ময় চ্যাটার্জি (শ্যামপুর), আরজিকর হাসপাতালের নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ প্রমুখ।
অন্যদিকে তৃণমূলের যেসব প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় (বালিগঞ্জ), মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), অভিনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (চৌরঙ্গী) প্রমুখ।
অন্য দলগুলির মধ্যে ভাঙ্গর আসনে জয়ী হয়েছেন- ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ) প্রার্থী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর) প্রমুখ।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামে ১২৬ টি আসনে, কেরালায় ১৪০ আসনে, তামিলনাড়ুতে ২৩৪ আসনে এবং পুদুচেরিতে ৩০ আসনের ফলাফলও ঘোষিত হয়েছে।
কেরালায় মোট আসন ১৪০। সেখানে সরকার গড়তে প্রয়োজন ৭১ আসন। এই রাজ্যটিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ১০২ আসনে এগিয়ে রয়েছে। সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) ৩৫ আসনে এগিয়ে আছে, অন্যরা এগিয়ে আছে ৩ আসনে।
দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুতে মোট আসন ২৩৪। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসনে জয়। সেখানে দারুণ সাড়া জাগিয়েছে অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টরি কাঝাগাম (টিভিকে)। ১০৮ আসনে এগিয়ে আছে তারা। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল দ্রাবিড়া মূনেত্রা কাঝাগাম (ডিএমকে) ৭৩ আসনে এগিয়ে আছে এবং অল ইন্ডিয়া দ্রাবিড়া মূনেত্রা কাঝাগাম (এআইএডিএমকে) ৫৩ আসনে এগিয়ে আছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চমক দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল টিভিকে। দুই বছরের মাথায় দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দলের চমক।
এদিকে আসামে টানা তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়ার পথে বিজেপি। এ রাজ্যে ১২৬ আসনের মধ্যে ম্যাজিক ফিগার ৬৪। এর মধ্যে বিজেপি ১০২ আসনে এগিয়ে আছে, কংগ্রেস ১৯ আসনে এবং অন্যরা ৫ আসনে এগিয়ে আছে।
কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে মোট আসন ৩০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৬ আসন। এখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২২ আসনে এগিয়ে আছে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ৬ আসনে এবং অন্যরা ১ টি মাত্র আসনে এগিয়ে আছে।
Posted ২:৪৫ পিএম | সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।