ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

বিক্ষুব্ধ সতীর্থদের মাঠে ফিরিয়ে নায়ক মানে

খেলা ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   126 বার পঠিত

বিক্ষুব্ধ সতীর্থদের মাঠে ফিরিয়ে নায়ক মানে

গোল বাতিল, বিতর্কিত পেনাল্টি, গ্যালারিতে মারধর, খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম, পেনাল্টি মিস, শেষ মুহূর্তের গোলে খেলার ফয়সালা– কী ছিল না আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে! নাটকের পর নাটকে উত্তেজনার পারদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল রাবাতে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে যায় রেফারির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত মাঠে ফিরে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে সেনেগালই। আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো সেনেগাল।

চার বছর আগে দেশকে প্রথম শিরোপার স্বাদ দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন সাদিও মানে। এবারও শিরোপা পুনরুদ্ধারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আবার টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছে সাবেক এ লিভারপুল ফরোয়ার্ড। তবে এবার শুধু ফুটবলের বিচারেই নয়, নেতিবাচক সব ঘটনায় ভরা মহানাটকীয় ফাইনালে ফুটবলের স্পিরিট ধরে রেখে দলকে মাঠে ফিরিয়ে সত্যিকারের নেতা হয়ে উঠেছিলেন মানে।

রাবাতের প্রিন্স মৌলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। যোগ করা ৮ মিনিট সময়ের শুরুতেই কর্নার থেকে দর্শনীয় এক গোল করেন সেনেগালের ফরোয়ার্ড পাপা গেয়ি। কিন্তু সেই গোল বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ হিসেবে তিনি দেখান, হেডে গোল করার আগে বক্সে মরক্কোর খেলোয়াড়কে ফাউল করেছিলেন সেনেগালের ফুটবলাররা। পরের মিনিটেই সেনেগালের বক্সে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজকে ফাউল করেন ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফ। রেফারি জ্যাকস এনদালা পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে সেনেগাল শিবির। ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। তাতেও সিদ্ধান্ত বদল হয়নি। তখন ক্ষেপে যান সেনেগালের কোচ পাপে বৌনা থিয়াও। তাঁর দলের ফুটবলারকে মাঠ থেকে উঠে আসার নির্দেশ দেন তিনি। সেই নির্দেশ মেনে সেনেগালের অধিকাংশ ফুটবলার উঠে যান। শুধু সাদিও মানে মাঠে রয়ে যান এবং সতীর্থদের মাঠে নামার আহ্বান জানাতে থাকেন। এভাবে ১৭ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত মানেই টানেল থেকে সেনেগালের ফুটবলারদের মাঠে নিয়ে আসেন। তারা মাঠে নামার পর পেনাল্টি নিতে যান মরক্কোর রিয়াল মাদ্রিদ তারকা দিয়াজ। কিন্তু পানেনকা শট নিতে গিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ডো মেন্ডির হাতে বল তুলে দিয়ে আসেন তিনি। ওখানেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই জমে ওঠে খেলা। ৯৪ মিনিটে ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকেই বুলেট গতির কোনাকুনি শটে সেনেগালকে এগিয়ে দেন পাপা গেয়ি। তবে এই শিরোপা লড়াই ঘিরে রাবাতের সবুজ আঙিনায় যা হলো, তাতে ফুটবলের সৌন্দর্য নিশ্চিতভাবে নষ্ট হয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই সেনেগালের আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, ‘এটি আফ্রিকার জন্য অসম্মানের।’

সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াওর সংবাদ সম্মেলন অবশ্য হয়নি। স্বাগতিক সাংবাদিকদের দুয়োর মুখে সেটা বাতিল করা হয়। তবে বেইন স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন। ‘আসলে মুহূর্তের উত্তেজনায় মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলে। আমাদের এমনটা করা উচিত হয়নি। আমরা ফুটবলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ এ ঘটনায় হতাশ সেনেগাল তারকা সাদিও মানে, ‘পেনাল্টি দেওয়ায় খেলা ছেড়ে যাওয়াটা পাগলামি। এমন কিছুর চেয়ে হেরে যাওয়া আমি ভালো মনে করি।’

Facebook Comments Box

Posted ৭:৫০ এএম | মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।