সোমবার ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

বিশ্বে ১৮৬ দেশের মধ্যে একমাত্র খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ গায়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২৫ মে ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   246 বার পঠিত

বিশ্বে ১৮৬ দেশের মধ্যে একমাত্র খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ গায়ানা

গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে বিশ্বের প্রতিটি দেশই কোনো না কোনোভাবে অন্য দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এমনকি প্রত্যেকটা দেশ তার জনগণের খাদ্য চাহিদা পূরণেও অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করে থাকে। তবে এখানে সবাইকে চমৎকৃত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার ছোট্ট দেশ গায়ানা।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বিশ্বের ১৮৬টি দেশের মধ্যে একমাত্র খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ হলো গায়ানা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গায়ানা এমন একটি দেশ যেখানে ফলমূল, সবজি, মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং শর্করার উৎস- এই সাতটি প্রধান খাদ্য উপাদানেই দেশের নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে জনসাধারণের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার ফুড’ জার্নালে।

উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং অনুকূল জলবায়ুর কারণে গায়ানায় কৃষিকাজ অত্যন্ত সহজ ও ফলপ্রসূ। দেশটির প্রায় ৮ লাখ জনসংখ্যা এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি দেশটিকে খাদ্য উৎপাদনে বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। গবেষকদের মতে, গায়ানার কৃষি খাত বহুদিন ধরেই স্থানীয় চাহিদার উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে সাতটি প্রধান খাদ্য উপাদানেই তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেরেছে।

গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন জার্মানির গটিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা প্রতিটি দেশের খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ এবং নাগরিকদের পুষ্টির চাহিদা বিশ্ব প্রকৃতি তহবিলের ‘লাইভওয়েল ডায়েট’ অনুযায়ী মূল্যায়ন করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী ৬৫ শতাংশ দেশ মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও পুষ্টিকর উদ্ভিজ্জ খাদ্য উপাদানে রয়েছে বড় ঘাটতি। মাত্র ২৪ শতাংশ দেশ পর্যাপ্ত সবজি উৎপাদনে সক্ষম এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও শর্করার উৎস উৎপাদনে সফল দেশের সংখ্যা আরও কম।

গায়ানার পর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে চীন ও ভিয়েতনাম, যারা সাতটির মধ্যে ছয়টি উপাদানে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, প্রতি সাতটি দেশের মধ্যে মাত্র একটি দেশই পাঁচটির বেশি উপাদানে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

অন্যদিকে, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ খাদ্যে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, আরব উপসাগরীয় দেশগুলো এবং নিম্ন-আয়ের অনেক দেশ এখনো ব্যাপকভাবে খাদ্য আমদানির উপর নির্ভরশীল।

গবেষণায় সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ম্যাকাও, কাতার ও ইয়েমেন- যাদের কোনো একটি খাদ্য উপাদানেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা নেই।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. জোনাস স্টেহল বলেন, “খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা না থাকলেই যে তা নেতিবাচক কিছু, তা নয়। অনেক দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ খাদ্য উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয়। এ ক্ষেত্রে দক্ষ উৎপাদক দেশ থেকে আমদানি করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান।”

তবে তিনি সতর্ক করে যোগ করেন, “স্বয়ংসম্পূর্ণতা না থাকলে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য অস্থিরতাও যেমন- যুদ্ধ, খরা বা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা- কোনো দেশের জন্য বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ৪:৫০ পিএম | রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।