ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

পদ্মায় পানি বাড়ছে, দৌলতপুরে অর্ধলাখ পানিবন্দী; ঘরে ঘরে সাপের আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   1 বার পঠিত

পদ্মায় পানি বাড়ছে, দৌলতপুরে অর্ধলাখ পানিবন্দী; ঘরে ঘরে সাপের আতঙ্ক

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে সড়ক, আবাদি জমি ও বসতভিটার নিচু অংশ। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান।

পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ। রান্নার জায়গা ও চলাচলের পথ ডুবে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। গবাদিপশু নিয়েও দুশ্চিন্তায় কৃষক ও খামারিরা।

এর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব। পানি বাড়ার পর ঘরবাড়ি ও বসতভিটার আশপাশে সাপের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বানভাসি মানুষ।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে।

শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণেই পদ্মায় দ্রুত পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা, ডিঙি নৌকা ও ভেলা হয়ে উঠেছে মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। অনেক পরিবারের রান্নার জায়গা পানিতে ডুবে গেছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, গত দুই-তিন দিনে উজানের ঢলের পানিতে তাঁর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি ওঠার পর থেকে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়ক ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। পানির দুর্ভোগের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কেও দিশেহারা মানুষ।

এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমিও তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গত বুধবার দুপুরে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানভাসি মানুষের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’

দুর্গতদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

Facebook Comments Box

Posted ৬:৩৫ এএম | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।