ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

নেতাকর্মীদের অপরাধে সম্পৃক্ত করেন হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   245 বার পঠিত

নেতাকর্মীদের অপরাধে সম্পৃক্ত করেন হাসিনা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল নির্দেশদাতা ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই নন, দলের সভাপতি হিসাবেও তিনি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অপরাধ সংঘটনের জন্য নির্দেশদাতা ছিলেন। ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া বিভিন্ন অডিও-ভিডিও পরীক্ষায় দেখা গেছে, আন্দোলনকারীদের নিশ্চিহ্ন করতে দলীয় লোকজনকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে টেলিফোন কথোপকথনেও একইরকম নির্দেশনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তার নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ অপরাপর অপরাধ সংঘটন করেন যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা বিভিন্ন অভিযোগ ও সাক্ষ্যসাবুদে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী শাসনের সাড়ে ১৫ বছর শেখ হাসিনা প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় লোকদের দানবে পরিণত করেন। জনগণের বিরুদ্ধে দলীয় লোকদের ব্যবহার করেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে দেশজুড়ে মানুষ হত্যায় তাদের সম্পৃক্ত করেন। এ অপরাধের দায় দলীয় লোকদের পাশাপাশি শেখ হাসিনার ওপর বর্তায়। ফলে দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত।

এদিকে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগেও (ফরমাল চার্জ) বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিপীড়ন চালানোর নির্দেশনার বিষয়টি উঠে আসে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। আসামী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে ২০০৮ সালের ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন, ভোটারবিহীন ও নিশি রাতের নির্বাচনসহ দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, প্রায় সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জঘন্য অপরাধ করেছে। যা বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন ইনু। আন্দোলন চলাকালীন সারা দেশে ১৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা হয়। আসামি হাসানুল হক ইনু ছিলেন এসব অপরাধ সংঘটনের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী ও নির্দেশদাতা।

দেশি-বিদেশি সহায়তায় আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খল ও সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে : অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকাকালে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ দেশে একটি বিশৃঙ্খল ও সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যার ফলে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য করা হয়। যার সূত্রপাত হয়েছিল, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবের মাধ্যমে। ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্যোগে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমেদকে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। যা ‘ওয়ান-ইলেভেন’ বা ‘এক-এগারোর সরকার’ নামে পরিচিতি পায়। এ সরকার সেনাবাহিনীর সহায়তায় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতে ১৩০টি আসনের সীমানা বদল করে। তারা অবৈধভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার অধীনে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করে। ২০০৮ সালে প্রহসন ও ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। পরবর্তী ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ভোটারবিহীন, নিশিরাতের ভোট এবং আমি ও ডামির নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম জারি রাখেন শেখ হাসিনা।

৩৮৩ জন এখনো নিখোঁজ : আইন ও সালিশকেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৬১১ জন ব্যক্তি নিখোঁজ হন। অর্থাৎ শেখ হাসিনার বাহিনী এদের গুম করে। এর মধ্যে ৩৮৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২১ সালের এক প্রতিবেদন ৮৬ জন গুমের সংখ্যা উল্লেখ করে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন থেকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপকতা, নৃশংসতা ফুটে ওঠে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জোরপূর্বক গুম করার তীব্রতা এতটাই গভীর ছিল যে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ ছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। এতে দেখানো হয়, জোরপূর্বক গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের প্রায়ই আওয়ামী লীগ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গোপন স্থানে কীভাবে আটক রাখা হয়েছিল।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে ৭ হাজারের বেশি মামলা : অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে ৭ হাজারের বেশি মামলা দায়ের করা হয়। এর ৮০ শতাংশ মামলা তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাধ্যমে করা হয়েছে। এসব মামলার ভুক্তভোগী ছিলেন তৎকালীন সরকারের সমালোচক, বিরোধীদলীয় সদস্য, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিচারিক ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারী, অবাধ ও রাজনৈতিক প্রয়োগের মাধ্যমে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী শাসনকে দৃঢ় করার লক্ষ্যে আদালতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন। দমন-পীড়নের ফলে ভিন্নমতাবলম্বী লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদসহ সব পর্যায়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। নির্যাতনের ফলে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেন লেখক মুশতাক আহমেদ। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার পর সারা দেশে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় তাদের ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একের পর এক হামলা চালাতে থাকে। সরকার পুলিশ, বিজিবি ও সোয়াতকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। এ সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করার জন্য জাতিসংঘের মনোগ্রামযুক্ত সাঁজোয়াযান ব্যবহার করা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চরম আকার ধারণ করলে সাধারণ জনগণ, এমনকি শ্রমিক ও রিকশাচালকরাও তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৩১ এএম | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।