নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 325 বার পঠিত

প্রশ্ন: এমন কোনো দুনিয়াবি কষ্ট আছে, যাতে করে আত্মহত্যা করা জায়েজ হয়ে যায়? নাকি হাজার কষ্টেও আত্মহত্যা করা না জায়েজ? সারাজীবন জাহান্নামে থাকতে হবে? কোনো ছাড় নেই?
উত্তর: জীবন শুধু আল্লাহ তায়ালার দেওয়া একটি মহান নেয়ামতই নয়, বরং এটি একটি বড় আমানতও বটে। আল্লাহ তাআলা বলেন- অতঃপর সে দিন তোমাদেরকে নিয়ামতরাজি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে (যে, তোমরা তার কী হক আদায় করেছ?) (সুরা তাকাসুর, আয়াত ৮)
আল্লাহ আমাদের এই দেহ, মন, সময় ও ক্ষমতা সবকিছুই দিয়েছেন—আমরা এগুলোর মালিক নই, বরং রক্ষক মাত্র। তিনি আমাদের জীবন আমাদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করার জন্য দেননি।
আল্লাহ তাআলা বলেন- আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদত করবে। অর্থাৎ, জীবনের মূল উদ্দেশ্য ইবাদত, আনুগত্য, ও আল্লাহর বিধান মেনে চলা—না যে, আমরা যা খুশি তাই করব। (সুরা আয-যারিয়াত, আয়াত ৫৬)
তিনি এটি একটি পরীক্ষা হিসেবে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন- যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে, কর্মে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম। তিনিই পরিপূর্ণ ক্ষমতার মালিক, অতি ক্ষমাশীল। (সুরা আল-মুলক, আয়াত ২)
প্রিয় বোন! এই পৃথিবী সুখের চিরস্থায়ী আবাস নয়—এটি হলো এক পরীক্ষার মাঠ, যেখানে কখনো আনন্দ আসে, আবার কখনো নেমে আসে দুঃখ-কষ্টের অন্ধকার।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব (কখনও) কিছুটা ভয়-ভীতি দ্বারা, (কখনও) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনও) জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। সুসংবাদ শোনাও তাদেরকে, যারা (এরূপ অবস্থায়) সবরের পরিচয় দেয়। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৫৫)
অন্য আয়াতে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে রয়েছে স্বস্তি।” (সুরা ইনশিরাহ, আয়াত ৬)
আল্লাহ আমাদের আগেই জানিয়ে দিয়েছেন—দুঃখ-কষ্ট আসবে। কিন্তু তার সঙ্গে আশার আলোও দিয়েছেন—যারা ধৈর্য ধরে, তারা সফল হবে ইনশাআল্লাহ। তবে শয়তান এমন সময়েই আমাদেরকে হতাশ করে ফেলে, আত্মধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে চায়। তাই আমাদের অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে, এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।
Posted ৩:৫৪ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।