বিশ্ব ডেস্ক | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 144 বার পঠিত

ইরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের মতামতের ওপর নির্ভর করবে। এ দুজন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ নিয়ে চুক্তির অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে ট্রাম্পকে জানাবেন। এসব মূল্যায়নের ভিত্তিতে ট্রাম্প হামলার সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন এ খবর জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা জেনেভায় আলোচনার শেষ পর্যায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট কোনো হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন এ সপ্তাহে ইরানের কাছে সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র জানায়, ইরানের সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্বে যথারীতি উইটকফ ও কুশনারই থাকছেন। তারা চুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরবেন। ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের বলেছেন, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে তিনি ইরানকে চাপ দেওয়ার জন্য সীমিত হামলার কথা বিবেচনা করছেন। আর তা ব্যর্থ হলে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য আরও বড় আক্রমণের কথা বিবেচনা করা হবে।
গত সোমবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সঙ্গে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে, সে সম্পর্কিত পরামর্শক দলের সব কটিতেই ছিলেন বিশেষ দূত উইটকফ। এ-সংশ্লিষ্ট বৈঠকেও তিনি অংশ নেন। সূত্র জানায়, ট্রাম্প সামরিক বিকল্প সম্পর্কে একাধিক ব্রিফিং পেয়েছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রতিক ছিল গত বুধবার হোয়াইট হাউস সিচুয়েশন রুমে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে সম্প্রতি ট্রাম্প ওয়েস্ট উইংয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে মতামতও চেয়েছেন।
ট্রাম্পের পরামর্শকদের মধ্যে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারপারসন জেনারেল ড্যান কেইন, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। ভ্যান্স বিমান হামলার পক্ষে যুক্তির উভয় দিকই উপস্থাপন করেছেন। তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরতে অভিযানের চেয়ে ইরানে আক্রমণে সাফল্য নিয়ে অনেক কম আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন। জেনারেল ড্যান কেইন ক্ষেপণাস্ত্রবিরোধী ব্যবস্থার কম মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে হামলা চালায়, তখন ইরান সীমিত পাল্টা হামলা চালিয়েছিল। এবার ইরান যে কোনো মার্কিন আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় যতটা সম্ভব কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত সপ্তাহে সতর্ক করে দেন– মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।
তেহরানের কাছে যুদ্ধবিমান মোতায়েন
স্যাটেলাইট ছবির বরাত দিয়ে গতকাল দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলাকালে বিভিন্ন ঘাঁটিতে ১৫০টির বেশি বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এসব বিমান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ঘাঁটি ও ইউরোপ থেকে আনা হয়েছে।
Posted ৩:০১ পিএম | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।