সোমবার ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস

  |   শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   261 বার পঠিত

আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস

আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। ‘যক্ষ্মা’ শব্দটা বাংলা ‘রাজ ক্ষয়’ শব্দ থেকে এসেছে। এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ফুসফুস। তবে হৃৎপিণ্ড, অগ্ন্যাশয়, ঐচ্ছিক পেশি ও থাইরয়েড গ্রন্থি ছাড়া শরীরের যেকোনো অঙ্গেই এই রোগ হতে পারে। এমনকি কিডনি, মেরুদণ্ড অথবা মস্তিষ্ক পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। তবে জীবাণু শরীরে ঢুকলেই কিন্তু যক্ষ্মা হয় না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলেই যক্ষ্মা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে দেশে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৪২ হাজার রোগী মারা গেছেন। সে হিসাবে এই রোগে গড়ে প্রতি মিনিটে একজন আক্রান্ত হয় এবং প্রতি ১২ মিনিটে একজনের মৃত্যু হয়। তাই যক্ষ্মা রোধে আদের অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। যক্ষ্মা হলে প্রাথমিকভাবে যেসব লক্ষণ শরীরে দেখা দিতে পারে—

১. টানা ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ধরে কাশি হলে।
২. বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট
৩. কফে রক্ত (কাশি বা গলা পরিষ্কার করার সময় শ্লেষ্মা এবং লালা উৎপন্ন হয়)

উপরের লক্ষণগুলো দেখার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যক্ষ্মা হয়েছে কী না। এরপর সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে রোগটি পুরোপুরি সেরে যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদি রোগ হওয়ায় এর জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ খেতে হয়। সেটা ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। এমন অবস্থায় রোগীদের ধৈর্যের সঙ্গে নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী পুরো মেয়াদে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে দুই থেকে তিন মাস ওষুধ খাওয়ার পর রোগী খুব ভালো অনুভব করতে শুরু করে। এরপর রোগটির সব লক্ষণ চলে যেতে শুরু করে। তাই রোগটি প্রতিরোধে আমাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করতে হবে। এর জন্য সবাইকে রোগটির লক্ষ্মণ ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

যক্ষ্মার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে যক্ষ্মায় সংক্রমণ ও মৃত্যু ৯৫ শতাংশ কমাতে হবে। সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য এই রোগটি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে যে কার্যক্রম চলছে, তাতে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, কয়েক দশক ধরে যক্ষ্মা চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হলেও এর সংক্রমণ বন্ধ হয়নি। এখনো এটি বিশ্বের শীর্ষ সংক্রামক রোগ। তাই এবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নতুন প্রণীত চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে যক্ষ্মা প্রতিরোধের আহ্বান জানাবে সংস্থাটি। রোগটি মূলত পিছিয়ে পড়া ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেশি বিস্তার করে। যেসব জনগোষ্ঠীর পানযোগ্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই এবং যারা অনুন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত, তাদের যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে অভিবাসী, শরণার্থী, জাতিগত সংখ্যালঘু বসবাস করে এমন ঝুঁকি প্রবণ এলাকায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই হিসাবে বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা যক্ষ্মার ঝুঁকি প্রবণ।

Facebook Comments Box
×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Posted ৪:২৪ এএম | শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।