রবিবার ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

আধিপত্য নিয়ে তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ের কোন্দল প্রকাশ্যে

বিশ্ব ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   46 বার পঠিত

আধিপত্য নিয়ে তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ের কোন্দল প্রকাশ্যে

আফগানিস্তানে মার্কিন সমর্থিত সরকারকে হটিয়ে ২০২১ সালে তালেবানরা ক্ষমতা দখল করেছিল। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাসহ নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দেশ চালাচ্ছে তালেবান। কিন্তু শাসনক্ষমতা ও আধিপত্য নিয়ে তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার কাছে বাইরের কোনো হুমকির চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় তাদের ভেতরের বিভক্তি। সম্প্রতি আখুন্দজাদার ফাঁস হওয়া এক বক্তব্যে অডিও ক্লিপ এসেছে বিবিরি হাতে। সেখানেই দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বক্তব্যে আখুন্দজাদাকে বলতে শোনা যায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল শেষ পর্যন্ত তাদের সবার পতন ডেকে আনতে পারে। এই বিভক্তির ফলে আফগানিস্তানে তালেবানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আমিরাত ভেঙে পড়বে এবং বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ কান্দাহার শহরের একটি মাদ্রাসায় তালেবান সদস্যদের সামনে আখুন্দজাদা এই বক্তব্য দেন। যদিও তালেবান নেতৃত্ব সব সময়ই এই বিভক্তির কথা অস্বীকার করে এসেছে। এমনকি বিবিসির সরাসরি প্রশ্নের উত্তরেও তারা তা নাকচ করে দিয়েছে।

তবে এই দ্বন্দ্বের গুঞ্জনের সূত্র ধরে বিবিসির আফগান সার্ভিস গত এক বছর ধরে অনুসন্ধান শুরু করে। তারা বর্তমান ও সাবেক তালেবান সদস্য, স্থানীয় সূত্র, বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক কূটনীতিকদের ১০০টিরও বেশি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। অনুসন্ধানে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব নিয়ে তালেবানের মধ্যে বিবদমান দুটি অংশ চিহ্নিত করেছে; যারা আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

প্রথম অংশটি হলো আখুন্দজাদার অনুগত গোষ্ঠী। কান্দাহার থেকে পরিচালিত তালেবানের এই অংশ দেশকে একটি কঠোর ইসলামিক আমিরাতের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা আধুনিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে আখুন্দজাদার অনুগত ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, আরেকটি অংশ রাজধানী কাবুলভিত্তিক গোষ্ঠী। এই দলে রয়েছেন প্রভাবশালী তালেবান সদস্যরা; যারা রাজধানীতে অবস্থান করেন। তারা এমন একটি আফগানিস্তানের কথা বলছেন, যা ইসলামের কঠোর ব্যাখ্যা অনুসরণ করলেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, দেশের অর্থনীতি গড়বে এবং এমনকি মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ দেবে।

বিবিসির কাছে সাক্ষাৎকার দেওয়া তালেবানঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি একে ‘কান্দাহার বনাম কাবুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে আখুন্দজাদা নির্দেশ দেন, আফগানিস্তানের ইন্টারনেট এবং ফোন সেবা বন্ধ করে দিতে, যাতে বিশ্ব থেকে দেশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যদিও তিন দিন পর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ইন্টারনেট আবার সচল হয়। বিবিসির দাবি, ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, ইন্টারনেট বন্ধের নেপথ্যে যা ঘটেছে, তা ছিল এক বিশাল ঘটনা। তালেবানের কাবুল গোষ্ঠী আখুন্দজাদার নির্দেশ অমান্য করে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করে দিয়েছিল।

Facebook Comments Box

Posted ৬:১৬ পিএম | বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

|

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।