খেলাধুলা ডেস্ক | সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 76 বার পঠিত

প্রথমে ছিলেন পাঁচতারকা হোটেলে। কিন্তু লাতিন বাংলা সুপার কাপের আয়োজকরা বিল পরিশোধ না করায় সাধারণ মানের হোটেলে ওঠেন আর্জেন্টিনার অ্যাতলেটিকো চার্লোন ক্লাবের ফুটবলাররা। ৮ ডিসেম্বর ম্যাচের পর শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় স্টেডিয়ামের বরাদ্দ বাতিল করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তাতে আর্জেন্টাইন ক্লাবটির সঙ্গে বেকায়দায় পড়ে যান ব্রাজিলের সাও বার্নার্দোর ফুটবলাররাও।
নিজস্ব প্রচেষ্টায় অনেকে দেশে ফিরে গেলেও আর্থিক সমস্যার কারণে ঢাকায় আটকা পড়েন আর্জেন্টিনার ১৪ জন। অনেকটা বন্দিদশা কাটানোর পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তারা। ১৩ দিন পর গতকাল দেশে ফিরতে পেরেছেন। আটকে পড়া ফুটবলারদের নিজেই দেশে পাঠিয়েছেন বলে রোববার জানান এএফসি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ‘হ্যাঁ সম্পূর্ণ আমিই ব্যবস্থা করেছি। বাংলাদেশের কেউ যদি ব্যবস্থা করত, তাহলে অনেক দিন আগেই ওরা চলে যেত। এত দিন বসে থাকত না।’
বক্সিংয়ের লোক আসাদুজ্জামানের হঠাৎ করে ফুটবল প্রীতি দেখে জনমনে নানা প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু এবং দিয়েগো ম্যারাডোনার সতীর্থ আর্জেন্টাইন ক্যানিজিয়াকে ১১ ডিসেম্বর ঢাকায় আনার ঘোষণা দিয়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দেন তিনি। অথচ ৫ ডিসেম্বর লাতিন বাংলা সুপার কাপ শুরু হওয়ার পরই পরিষ্কার হতে থাকে কাফু ও ক্যানিজিয়া আসছেন না। তাদের আনতে না পারার পেছনে আর্থিক সংকটকে কারণ হিসেবে বলেছেন আসাদুজ্জামান। এই জন্য অসহযোগিতার কথাও বলেছেন তিনি।
খেলোয়াড়দের নিজ দেশে পাঠানোর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি এবং দোকান বিক্রি করেছেন বলে জানান আসাদুজ্জামান, ‘আমি আসছিলাম একটা চিন্তা করে। কিন্তু সেটা করতে দেয়নি আমাকে। আমার সঙ্গে যতটুকু করা হয়েছে, তা অন্যায় করা হয়েছে।’ অন্যায়টি তাহলে কে করেছে? এমন প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘যে দলই হোক না কেন এই প্রথম এশিয়ার কোনো দেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দল এসেছে। তারা তো আমাদের অতিথি। তারা যেহেতু আসছে, তাদের অন্তত খেলতে দেওয়া উচিত ছিল। ইস্যু দাঁড় করিয়ে খেলা বন্ধ করে দেওয়া হলো।’
জাতীয় স্টেডিয়াম বরাদ্দ বাতিলের পেছনে বড় কারণ ছিল অব্যবস্থাপনা। আর প্রতিযোগিতার শেষ ম্যাচটি বাতিল হওয়ার পেছনে আসাদুজ্জামান দায়ী করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে, ‘তিন-চার লাখ টাকার জন্য আপনি একটি ম্যাচ করতে দিলেন না। আমি না হয় পারি নাই; কিন্তু সেটা তো আপনারা (এনএসসি) করে দিতে পারতেন। এত দূর থেকে আসার পর তাদের খেলতে দেওয়া উচিত ছিল। যদি মাঠ দেন, তাহলে আমি পরে টাকা দিতে পারব। অনুমোদনটা দিতে হবে, মাঝপথে এসে আপনারা ধাক্কা দিবেন কেন? এনএসসির কত টাকা ছিল আপনারা প্রশ্ন রাখেন। আমি শর্ত রাখতে পারিনি। কিন্তু দেশের স্বার্থে এতটুকু সেক্রিফাইস কি করতে পারত না জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ? ভিক্ষুকের মতো দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ঘুরছি; কোথাও সাড়া পাইনি।’
শুধু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে নয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকেও দায়ী করেছেন তিনি, ‘বাফুফের সঙ্গে আলোচনার পরই তো আমি জাতীয় স্টেডিয়াম পেয়েছি। আমি বিপদে পড়লাম, কিন্তু বাফুফে এই টিম নিয়ে কোনো চিন্তা করল না। এটা তো ফুটবল, অন্য কিছু নয়। তাদের কি দায়বদ্ধতা বলে কিছু নেই। তারা এগিয়ে এলে তো হিরো হয়ে যেত। বাফুফে চাইলেই এটাকে সেকেন্ডের মধ্যে মীমাংসা করতে পারত।’
Posted ৫:৫৭ পিএম | সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।