বিশ্ব ডেস্ক | রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 184 বার পঠিত

গাজায় আমরা শান্তি শব্দটি ক্রমাগত শুনি, কিন্তু এখানে শান্তির চেয়ে যুদ্ধবিমানের গর্জন বা গোলাবর্ষণের শব্দ বেশি। টেলিভিশনের পর্দায় বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে বারবার শান্তির প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। এমনকি প্রতিটি দেশ ফিলিস্তিনিদের জন্য শান্তি দাবি করে। কিন্তু এক দিনের জন্যও এখানে শান্তি আসেনি।
কথাগুলো বলছিলেন গাজার বাসিন্দা আয়া আল হাত্তাব। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গত শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির অধীনে বাস করছি। কিন্তু যুদ্ধবিরতি কী তা আমরা মোটেও অনুভব করিনি। ১০ অক্টোবর শার্ম আল-শেখে বিরাট উৎসবের মধ্যে শান্তিচুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। অথচ যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ৭০ জন শিশুসহ চার শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। আমরা অপেক্ষার এক অন্তহীন গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছি।’
আল হাত্তাব বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের ভয় ও বিভ্রান্তিতে ভুগছি। আমি ও আমার পরিবার কঠিন অবস্থার মধ্যে পার করছি। পানি ও নগদ অর্থের ভয়াবহ সংকট। রাস্তাঘাট এতটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত যে, হাঁটা বা গাড়ি চালানো বিপজ্জনক। বিদ্যুৎ বা নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট নেই। নিশ্চিত নিরাপত্তার কোনো অনুভূতি আমাদের নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তির প্রতিশ্রুতিতে যখনই আশাবাদী হয়ে উঠি, যখনই নতুন শান্তিতে ভরা জীবনের স্বপ্ন দেখি– তখনই শুনতে পাই বিস্ফোরণের শব্দ, গোলাগুলির শব্দ। আমরা এক প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছি। আমি আমার বাগদত্তাকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে শান্তিতে থাকার জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এটিই প্রতিটি ফিলিস্তিনির আসল যন্ত্রণা।’
এদিকে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে মিসর। দেশটি বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত নেতানিয়াহু।
যুক্তরাজ্যে মৃত্যুঝুঁকিতে আট ফিলিস্তিন সমর্থক
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একটি দল যুক্তরাজ্যের কারাগারে অনশনরত আটজন ফিলিস্তিনি সমর্থকের মুক্তি দাবি করেছেন। তারা মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা। কারাগারে অনশনকারীরা টানা সাত সপ্তাহ কারাগারে খাবার খাচ্ছেন না। ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতাবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জিনা রোমেরো স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন। আটক সবাই যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সদস্য।
নামাজরত ফিলিস্তিনিকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সড়কের পাশে নামাজ আদায় করছিলেন এক ফিলিস্তিনি। সে সময় এক ইসরায়েলি ওই ফিলিস্তিনিকে গাড়ি দিয়ে সজোরে ধাক্কা দেন। এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের। ভিডিওতে সশস্ত্র এক একজন ফিলিস্তিনিকে গাড়িচাপা দেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। আঘাতকারী ব্যক্তি একজন সংরক্ষিত সেনা। এরই মধ্যে তাকে সামরিক পরিষেবা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের স্বাধীনতা কমিটি জানিয়েছে, হত্যা ও পঙ্গু করে গাজার সাংবাদিকদের নিশ্চিহ্ন করার নীতি গ্রহণ করেছে ইসরায়েল। গতকাল এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে গাজা ও ফিলিস্তিনে সংঘটিত ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল।
সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি হামলা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৭৬ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত বা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গত আগস্টে আলজাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফসহ চার সাংবাদিককে হত্যা করা হয়। একটি পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মাসে গাজায় প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। গড়ে প্রতি মাসে এই সংখ্যা প্রায় ১২ জন।
Posted ৩:২৮ পিএম | রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।