খেলাধুলা ডেস্ক | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 5 বার পঠিত

৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে হাইতি। গত শুক্রবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণার সময় ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে বলেছেন, আগামী বিশ্বকাপে তাদের লক্ষ্য নকআউটে খেলা। এই লক্ষ্যে কোচের ভরসা এক ঝাঁক প্রবাসী ফুটবলার। হাইতির ২৬ জনের স্কোয়াডের মাত্র ১০ জন দেশটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
হাইতির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দেশের বাইরের ১৬ ফুটবলারের মধ্যে ১২ জনের জন্ম ফ্রান্সে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে দুজন এবং কানাডা ও সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া একজন করে ফুটবলার আছেন। মূলত মা-বাবা কিংবা দাদা-দাদির সূত্রে তারা হাইতির নাগরিকত্ব নিয়েছেন। এদের প্রায় সবারই হাইতির হয়ে অভিষেক হয়েছে। শুধু তাই নয়, হাইতির স্কোয়াডের ২৫ জনই বিদেশে খেলেন। হাইতির ফুটবল লিগে খেলা মাত্র একজন বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন। ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লিগের খেলা খেলোয়াড়দের মাঝে হাইতির ক্লাবে খেলা একমাত্র ফুটবলার হলেন উডনস্কি পিয়েরে। ২১ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার খেলেন হাইতির ক্লাব ভায়োলেট এফসিতে।
হাইতির বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে বড় নাম প্রিমিয়ার লিগের দল সান্ডারল্যান্ডের স্ট্রাইকার উইলসন ইসিদোর ও উলভসের মিডফিল্ডার জ্যঁ-রিকনার বেলেগার্ড। আক্রমণভাগে রয়েছেন হাইতির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডাকেন্স নাজোন। ৭৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪৪ গোল করা এই স্ট্রাইকার খেলেন ইরানের ক্লাব ইস্তেগলাল এফসিতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করে, তখন তিনি তেহরান বিমানবন্দরে ছিলেন। তিনি বিমানেও চড়ে বসেছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের কারণে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমান আর ওড়েনি। পরে সড়কপথে আজারবাইজান হয়ে বাড়ি ফেরেন। সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে তাঁকে ভালো খেলতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও বিশ্বাস নাজোনের। তাঁর সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকছেন চলতি মৌসুমে হাঙ্গেরিয়ান ক্লাব ফেরেন্সভারোসের হয়ে ১৬ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করা লেনি জোসেফ।
গৃহযুদ্ধে জর্জরিত হাইতি নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের একটি ম্যাচও নিজ দেশে খেলতে পারেনি। বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করতে গিয়ে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে, ‘এটি আমার দ্বাদশ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় সেরা একাদশ বেছে নেওয়ার চেয়ে সেরা স্কোয়াড তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ৫২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমাদের সমর্থক, খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
আগামী বিশ্বকাপে তাদের লক্ষ্য নিয়ে কোচ বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করা। তবে আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিকতার বিবেচনায় এটি খুবই ছোট টার্গেট। আমরা নকআউটে খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব। আমি চাই ছেলেরা মাঠে তাদের সেরাটা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে হাইতির একটি চমৎকার ভাবমূর্তি তুলে ধরুক।’ গ্রুপ ‘সি’তে হাইতির সঙ্গে আছে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল, ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। ১৩ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে হাইতি।
Posted ৭:১৩ পিএম | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।