জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 96 বার পঠিত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গতকাল রোববার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলামের সই করা এই সংক্রান্ত একটি চিঠি সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।
ইসির চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ, আনসার, সাধারণ আনসার বা ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য ফোন রাখতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার আমরা বলছি যে, শত শত মানুষ যদি আমার ওখানে ক্যামেরা নিয়ে ঢোকে, মোবাইল নিয়ে এজেন্টরা ঢোকে, ডাইরেক্ট আমাদের ভোটাররা ঢোকে, তাহলে তো আমার মহা মুশকিল হবে।’
তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াকে ভয় করেই তো আমরা এই কাজটা করেছি। টু কন্ট্রোল সোশ্যাল মিডিয়া, যেটা আমি কন্ট্রোল করতে পারি না। সেজন্য বলছি যে ভোট দেওয়ার সময় ফোন নেবেন না। পরীক্ষার হলেও তো মানুষ ফোন নিতে পারে না। যদি কেউ ভুলে ফোন নিয়ে যান, তিনি দায়িত্বে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে রেখে ভোট দিতে যাবেন।
এদিকে মোবাইল ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এমন নির্দেশনা জারি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। তারা বলেন, ‘নির্দেশনায় সাংবাদিকদের নাম নেই। এতে করে আমরা মোবাইল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারব না, আমরা তাহলে কাজ করব কীভাবে। কারণ, বর্তমান সময়ে মোবাইল দিয়েই সব কাজ করেন সাংবাদিকরা।’
নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জেবেল জানান, প্রথমত- নির্বাচনের দিনে মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ কারা করতে পারবেন, কারা পারবেন না; নির্বাচন কমিশন যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। দ্বিতীয়ত- সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন পেশাগত কাজ করতে গিয়ে। কারণ, বেশিরভাগ সাংবাদিক নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে ছবি-ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে তা সম্ভব হবে না। তৃতীয়ত- কোনো সাংবাদিক ভোটকেন্দ্রে হামলার শিকার হলে তিনি তার সহকর্মীকে মোবাইলের মাধ্যমে তা অবহিত করেন। কিন্তু মোবাইল না থাকলে তিনি কীভাবে জানাবেন? এটা তার নিরাপত্তার জন্যও হুমকির সৃষ্টি করবে। এই মোবাইল তারা কোথায় রেখে যাবেন? তাই হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার তীব্র নিন্দা জানাই। এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবশ্যই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
সাংবাদিকরা জানান, এ নির্দেশনার ফলে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। যা জাতি ও গণমাধ্যমের জন্য ক্ষতিকর। মোবাইল ছাড়া মাঠ পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ বর্তমান যুগে প্রায় অসম্ভব।
Posted ৭:১৩ পিএম | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।