ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

‌‘মক ভোটিংয়ে’ ভোট পড়ল ৭০.৪ শতাংশ

বাংলাদেশ ডেস্ক   |   রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   73 বার পঠিত

‌‘মক ভোটিংয়ে’ ভোট পড়ল ৭০.৪ শতাংশ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবারের ‘মক ভোটিং’-এ ৭০.৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মহড়া হিসেবে দুই ভোটের সমস্যা ও সময়ের ব্যবধান বুঝতে এই মক ভোটিংয়ের আয়োজন করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মক ভোটিংয়ের ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘মক ভোটিংয়ে নির্ধারিত ৫০০ ভোটারের মধ্যে ৩৫২ জন ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ ৭০.৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

তবে মক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে কি না সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাননি। সংসদ ভোটের ব্যালট পেপারেও কোনো দলের প্রতীক রাখা হয়নি।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনাররা বুথগুলোতে নানা ধরনের ভোটারদের নিয়ে ভোট দেওয়ার সময় পর্যালোচনা করেছেন। এটা নিয়ে একটা প্রতিবেদন আসবে। এর ভিত্তিতে সামগ্রিক বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।’

এর আগে শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘মক ভোটিং’ অনুষ্ঠিত হয়। তবে নানা অব্যস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলায় ভোটগ্রহণ শুরুর একঘণ্টা পর তা বন্ধ করে দিয়ে ফের শুরু করা হয়েছে। ইসির এই মক ভোটিংয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ, বস্তিবাসী, শিক্ষার্থী, তৃতীয় লিঙ্গের, প্রতিবন্ধী ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) প্রকল্পের ৫০০ জন ভোটার অংশ নেন।

এদিকে মানুষকে ভোট শেখানো ও সমস্যা বোঝার এই কার্যক্রমে না বুঝেই ‘হ্যাঁ’ ‘না’-এর গণভোট দিয়েছেন বলে জানান অনেক ভোটার। তারা গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।

ভোট দিয়ে বের হয়ে কে এম আবু হানিফ বলেন, ‘আজ যখন এখানে ভোট দিতে এসেছি, তখনও আমাদের জানানো হয়নি গণভোটে কি কি থাকবে। আগে থেকে যদি ব্রিফ করতেন, তাহলে আমরা বুঝতে পারতাম। আবার সব পড়ার সুযোগও ছিল না। তারপরও হ্যাঁ ভোট দিয়েছি।’

হাফিজুর রহমান একই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গণভোট দিয়েছি কিন্তু না দেখে, না পড়ে। আগে থেকে আরও জানা থাকলে ভালো হতো।’

ভোট দিতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েননি বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম নামের আরেক ভোটার। তিনি বলেন, ‘আমি না ভোট দিয়েছি। হঠাৎ করে ভোট হলো। আগে থেকে কিছু জানতে পারিনি। তবে, আমি না ভোট দিয়েছি। আগে থেকে জানতে পারলে ভালো হতো।’

হাজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নামের আরেক ভোটার বলেন, ‘একই দিনে দুটি ভোট হলে একটু সমস্যা তৈরি হয়। গণভোটে কি কি বিষয় আছে, তা জানার সুযোগ হয়নি। আমি ভালোভাবে বুঝতে পারলে জেনে-বুঝে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে পারতাম। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন আরও ভূমিকা রাখতে পারতো। তবে, হ্যাঁ ভোট নাকি না ভোট দিয়েছি, তা জানাতে চাচ্ছি না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ভোটার বলেন, ‘ভালো পরিবেশে ভোট দিয়েছি। কিন্তু গণভোট দিয়েছি না দেখেই। গণভোট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো দরকার সবাইকে। যেমন আমি আজ গণভোটের প্রশ্নগুলো পড়তে পারিনি। মানে, সময় পাইনি।’

ভোট দিয়েছেন এমন আরেকজন নারী বলেন, সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালটে কালো মার্কা। আর গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার- যেটাতে হ্যাঁ এবং না ভোট রয়েছে টিক চিহ্ন ও ক্রস চিহ্ন দিয়ে। সিল দিয়ে ভোট দিতে এক মিনিট সময় লেগেছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, তাই পুরো প্রক্রিয়া আরও দক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমরা আগেই অভিজ্ঞতা ঝালাই করে নিতে চাই।

তিনি বলেন, এই মক ভোটিংয়ের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভোট কক্ষ সংখ্যা বাড়ানো লাগবে কি না, কোথাও সমন্বয়ের প্রয়োজন কি না, ভোটকক্ষ ও জনবল বাড়বে কি না—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন গত বছরের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো নির্বাচন করেনি। এই মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১১:৪৬ এএম | রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।