বৃহস্পতিবার ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

চামড়ার বাজারে মন্দাভাব, সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা

বাণিজ্য ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   2 বার পঠিত

চামড়ার বাজারে মন্দাভাব, সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে মন্দাভাবের ফলে ট্যানারিগুলোতে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সরবরাহ কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন আড়তে চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হয়েছে।

সরকার এবার চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ট্যানারি মালিক ও চামড়ার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পর চামড়ার দাম কিছুটা বাড়ানোও হয়েছে। এরপরও চামড়া শিল্পের সংকট কাটছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান এবং ব্যবসায়ী কমে যাওয়ার পাশপাশি ট্যানারি মালিকদের সরাসরি চামড়া কেনার প্রবণতা বেড়েছে। তাছাড়া এবার ঈদুল আজহায় বৃষ্টিপাত ও গরমের কারণে চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সেভাবে আগ্রহও পাচ্ছেন না। এসব কারণেই চামড়ার বাজারে এমন মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু ও মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল ও ভেড়া এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী। আর কোরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে ২২ লাখেরও বেশি। এ বছর চাহিদা রয়েছে এক কোটি এক লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এই চামড়ার ৬০ ভাগের বেশি সরবরাহ মেলে কোরবানির মৌসুমে। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া।

সরকারের যত উদ্যোগ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চামড়া যেন নষ্ট না হয় এবং দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যে সারা দেশে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য চামড়া সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ঈদের আগে জুমার নামাজে দেশের সকল মসজিদে খতিব ও ইমামদের খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির অধিক টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়।

এদিকে সরকার এবার লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়িয়েছে। এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ টাকা থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ টাকা থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশে খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং সারা দেশে বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না। দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।’

ট্যানারিগুলোর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৭০ লাখ পিস চামড়া, সরবরাহ কম হওয়ার আশঙ্কা

সাভার প্রতিনিধি জানান, সাভারের বিসিক শিল্পনগরীর ট্যানারিপল্লিতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহকারীরা অর্থাৎ পাইকাররা ট্রাকে করে চামড়া সরবরাহ করছেন। ইতিমধ্যে ট্যানারিতে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন ট্যানারি মালিকরা। তবে বিগত দিনের চেয়ে এ বছর চামড়া সরবরাহ কম বলে ট্যানারির একাধিক মালিক সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার দেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হতে পারে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পশুর চামড়া এ ট্যানারির বিভিন্ন শিল্পকারখানায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন ট্যানারির মালিকরা। এছাড়াও কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহৃত লবণ ও কেমিক্যালের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হরিণধারা এলাকায় ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। পর্যাপ্ত লবণ ও কেমিক্যাল মজুত করা এবং জমে থাকা পুরোনো বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

তরল বর্জ্য শোধনের জন্য সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) পরিষ্কার ও সংস্কার করে সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকে ট্যানারিগুলোতে পশুর চামড়া আসা শুরু হবে। সেজন্য মৌসুমি শ্রমিকদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এবিসি ট্যানারির মালিক ইমাম হোসেন জানান, ট্যানারিগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী চামড়া কেনা হবে। তবে অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঈদকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত লবণ মজুত করেছেন তারা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চামড়া কেনার পর দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির পর ধাপে ধাপে ট্যানারিগুলোতে চামড়া আসবে এবং মালিকরা সেগুলো ক্রয় করবেন।’

ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এ বছর প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ চামড়া ট্যানারি মালিকরা সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এ বছর কাঁচা চামড়া সরবরাহ কম হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কোরবানির ঈদের কয়েক দিনে কয়েক গুণ বেশি চাপ তৈরি হয়। সে কারণে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সিইটিপিকে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ট্যানারি মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

চামড়া সংগ্রহে ট্যানারিগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর নানা কারণে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। সে হিসেবে আমরা এবার ৮০ থেকে ৮৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে বৃষ্টির কারণে চামড়া সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা দরকার। পশু জবাইয়ের পর দ্রুত চামড়া ছাড়িয়ে সঠিকভাবে লবণ দিতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।’

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশরাফ উদ্দিন আহমদ খান বলেন, ‘প্রতিবছর কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। গত বছর ২০ শতাংশের বেশি চামড়া নষ্ট হয়েছে। এবারও অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে ঝুঁকি রয়েছে। সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।’

পোস্তগোলায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমেছে

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে মন্দা থাকায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছেন এই খাতের বৃহত্তম বাজার পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তগোলার আড়ত মালিকরা। আগের বছরগুলোর তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে এক লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন তারা।

ঈদুল আজহা উদযাপনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে পোস্তগোলার কাঁচা চামড়ার বাজার ঘুরে এমন তথ্য মিলেছে। সেখানকার আড়তগুলোর ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের পাশাপাশি তারাও কাঁচা চামড়া কেনা ও সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুতি শেষ করেছেন। কিন্তু বাজারের মন্দাভাবের কারণে এবার চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দিতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, পোস্তগোলা বাজারেও আগের মতো চামড়া আসে না। বছর কয়েক আগেও ঈদুল আজহার তিন দিনে প্রায় তিন লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ হতো। এবছর পোস্তগোলার ব্যবসায়ীরা এক লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন।

এখানে সারা বছরের চামড়ার প্রায় অর্ধেক আসে কোরবানির ঈদের মৌসুমে। সেখানে প্রায় ৭০টি আড়তে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়। বরাবরের মতো এবারও আড়ত মালিকরা আগেভাগে নিজ নিজ আড়তের ঘরগুলো পরিষ্কার করে প্রস্তুত রেখেছেন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত লবণ কিনে মজুতও করে রেখেছেন।

সরেজমিন ঘুরে আরও দেখা যায়, ঈদের দিন সকাল থেকে চামড়া সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন পোস্তগোলার ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনছেন তারা। কারও কাছে কম বা বেশি মূল্যে চামড়া কেনাবেচার অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের তিন দিন চামড়া সংগ্রহ করা হলেও পোস্তগোলায় পুরো মাসজুড়ে চামড়া সংরক্ষণ করা হবে। আবার ঈদের ১৫ দিন পরও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চামড়া আসবে। সেগুলোও সংরক্ষণ করা হবে।

তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার চামড়ার ভালো ব্যবসা হবে বলে প্রত্যাশা তাদের। আবার সরকার এ বিষয়ে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেটা মানতে পারলে চামড়া নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও কম।

পোস্তগোলার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আফতাব খান বলেন, এখন কোরবানির ৮০ ভাগ চামড়া ট্যানারি মালিকরা সরাসরি কিনে নেন। পোস্তগোলায় আসে মাত্র ২০ ভাগ।

তিনি বলেন, সরকার এবার চামড়ার দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। তবে শুধু দাম বাড়ালেই হবে না, স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত চামড়া লবণজাত করতে হবে। ঢাকার বাইরের চামড়া স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দরপতন ও পচনের ঝুঁকি কমবে। আবার দ্রুত বেশি দামের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাইরের চামড়া ঢাকায় নিয়ে আসেন। এতে দীর্ঘপথে পরিবহনের কারণে চামড়া নষ্ট হয় এবং বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান বলেন, চামড়ার বাজার কেমন যাবে সেটা বোঝা যাবে ঈদের দিন বিকেল থেকে। প্রতিবছরই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রির অভিযোগ ওঠে, বিশেষ করে রাতে সংগ্রহ করা চামড়ার ক্ষেত্রে। দিনের বেলায় দ্রুত সংরক্ষণ সম্ভব হলেও রাতে অনেক সময় বিলম্ব হয়। এতে চামড়ার মান কমে যায় এবং ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য দিতে চান না।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৩৯ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।