বাণিজ্য ডেস্ক | সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 3 বার পঠিত

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের বন্ধে এটিএম বুথসহ অনলাইন মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বন্ধ শুরুর আগেই এটিএম বুথে টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে বেশিরভাগ ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন বন্ধ বা সীমিত রেখেছে। এমতাবস্থায় সোমবার থেকে টানা ৭দিনের বন্ধে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি বেড়েছে।
ব্যাংকাররা জানান, ছাপানো টাকার চাহিদা বেশি হয় কোরবানির ঈদের আগে। এ সময় পশু কেনাসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে মানুষ ব্যাংকগুলোতে ভিড় করেন। ব্যাংকগুলোও তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত হিসাবের বিপরীতে বেশি টাকা উত্তোলন করে। যে কারণে প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়। দীর্ঘ লাইন বা ঝামেলা এড়াতে টাকা তোলার জন্য এখন সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গায় হয়ে উঠেছে এটিএম বুথ। তবে গত শনিবার থেকেই অনেক বুথে গিয়ে টাকা না পাওয়ার খবর মিলেছে। অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে অনেক ব্যাংক ঠিক মতো জমানো টাকা দিতে পারছে না। এ ধরনের ব্যাংকের এটিএম বুথ প্রায় অকেজো। যে কারণে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল। তবে ঈদের আগে বেশিরভাগ ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কার্ড থেকে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ বা সীমিত করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ঈদের আগে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে সার্কুলার দিয়ে সব এটিএম বুথ যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও অনেক ব্যাংকে বুথে টাকা না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।
তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েই ব্যাংকগুলো এটিএম বুথের অনুমোদন নিয়েছে। কেন এরকম হলো ঈদের পরে তাদের সাথে বসা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোরবানির হাটে স্থাপিত ব্যাংকের বুথ এবং ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের প্রধান হাট সংলগ্ন ব্যাংক শাখা বন্ধের মধ্যেও খোলা থাকবে। গত রোববার থেকে এসব শাখা সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগদ লেনদেন সেবা দেবে। ফলে পশু কেনার জন্য নগদ টাকার কোনো সংকট হবে না বলে তিনি আশা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২১ মে এক নির্দেশনার মাধ্যমে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, পয়েন্ট অব সেলস (পস), কিউআর কোড ও অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়েতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কোথাও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। প্রতিবছর একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও বন্ধের মধ্যে বিড়ম্বনার খবর পাওয়া যায়। এবার ঈদের বন্ধ শুরুর আগেই অনেক বুথে টাকা না পাওয়ার খবর মিলেছে।
একটি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, ঈদের টানা বন্ধের মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর ছেড়ে গ্রামে যান অনেকে। যে কারণে এ সময় গ্রামীণ এটিএম বুথগুলোতে টাকা তোলার চাহিদা বাড়ে। তবে সাধারণত উপজেলা পর্যায়ে কম সংখ্যক এটিএম বুথ থাকে। এর মধ্যে অন্য ব্যাংকের কার্ড বন্ধ করে দেওয়ায় এরকম সময়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবার এমএফএস থেকে টাকা উত্তোলন সেবাও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
ঈদের বন্ধের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে। এবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি র্কপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ১১টি পশুর হাটের বিশেষ লেনদেন সেবা মিলবে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিবিরহাট ও সাগরিকা হাট, রংপুরের লালবাগ সদর, খুলনার জোড়া হাট এবং রাজশাহীর সিটি হাট সংশ্লিষ্ট শাখায় বিশেষ লেনদেন সেবা পাওয়া যাবে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় এসব শাখা খোলা থাকবে। এছাড়া সোমবার ও মঙ্গলবার তৈরি পোশাক সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে। এ দুই দিন বিশেষ ব্যবস্থায় সকাল ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত লেনদেন হবে। খোলা থাকবে ৩টা পর্যন্ত।
Posted ১০:৪৩ এএম | সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।