খেলাধুলা ডেস্ক | বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 64 বার পঠিত

বয়স যে একটা সংখ্যা মাত্র, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩৮ বছরের মেসি আগামী বিশ্বকাপ খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন। তবে তাদেরও টেক্কা দিয়েছেন জাপানের কাজু মিউরা। শরীরবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সব সূত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৫৮ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল খেলে যাচ্ছেন তিনি। ‘কিং কাজু’ নামে খ্যাত এ ফুটবলার সম্প্রতি জাপানের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ‘ফুকুশিমা ইউনাইটেড’-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন।
২০১৫ সালে ৪৯ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পেশাদার ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন কাজু মিউরা। তার পর কেটে গেছে এক দশক। তিনি থেমে যাননি। এখনও খেলে যাচ্ছেন ফুটবল। মিউরার জন্ম ১৯৬৭ সালে। ১৫ বছর বয়সে ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্লাব সান্তোসের হয়ে ১৯৮৬ সালে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় তাঁর।
শুধু ফুটবলার হওয়ার জন্য ছেলেবেলায় ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালটা কিন্তু ফুটবলে ঐতিহাসিক। ফুটবল ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে কোচিং করানো শুরু করেন, স্যার কেনি ডাগ্লিশ লিগ শিরোপা ও এফএ কাপ জিতে ডাবল জিতেছিলেন, ইউক্রেনের স্ট্রাইকার ইগর বেলানোভ ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। ফুটবলের ট্রিভিয়ায় তাদের সঙ্গে মিউরার নামটাও ব্রাকেট বন্দি হয়ে থাকবে।
সান্তোসে অভিষেকের পর পালমেইরার্স, কোরিতিবাসহ ব্রাজিলের আরও দুই ক্লাবে খেলে ১৯৯০ সালে নিজ শহর টোকিও’র ভার্দি কাওয়াসাকিতে যোগ দেন মিউরা। ঘরে ফিরে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। ভার্দিতে ৮ বছরে ১৮৭ ম্যাচে ১১০ গোল করেন। মাঝখানে দুই মৌসুম ইতালির ক্লাব জেনোয়াতে ধারে খেলে আসেন। এ সময় জাপান জাতীয় দলেও তিনি ছিলেন নিয়মিত মুখ। জাতীয় দলের হয়ে ৮৯ ম্যাচে ৫৫ গোল করেন তিনি।
ভার্দির সঙ্গে চুক্তি শেষে যোগ দেন ক্রোয়েশিয়ার ক্লাব ডায়নোমো জাগরেবে। সেখান থেকে কিয়াটো পার্পেল ও ভিসেল কোবিতে খেলেন। ২০০৫ সালে যোগ দেন জাপানের আরেক জায়ান্ট ইয়োকোহামাতে। তাদের হয়ে ২৯৮ ম্যাচ খেলেন তিনি। মাঝে ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল ও জাপানের একাধিক ক্লাবে ধারে খেলেন। গত মৌসুমে জাপানের চতুর্থ বিভাগের দল অ্যাথলেটিকো সুজুকাতে খেলেন। ‘জাপান টাইমস’ জানিয়েছে, সেখান থেকে ধারে তৃতীয় বিভাগের দল ফুকুশিমা ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন কিং কাজু।
সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৯৯২ সাল মিউরার সবচেয়ে সফল বছর। ভার্দিকে এএফসি এশিয়ান কাপ জেতানোর পাশাপাশি এশিয়ার সেরা ফুটবলারও হয়েছিলেন তিনি। ৫৮ বছর বয়সে নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের চর্চার বিষয় হচ্ছে, এই বয়সেও ফিটনেস ধরে রেখে পেশাদার ফুটবলের ধকল কেমন করে সামলাচ্ছেন তিনি!
মিউরার নিজের জার্সি নাম্বার ১১ অনুসরণ করে সাধারণত ১১ জানুয়ারি রাত ১১টা ১১ মিনিটে নতুন কিছুর ঘোষণা করেন। এটি তাঁর ট্রেডমার্ক স্টাইল হয়ে উঠেছে। পেশাদার ফুটবলে ৪১তম মৌসুম কাটাতে যাওয়া মিউরা এই বয়সে খেলে যাওয়ার রহস্য নিয়ে বলেন, ‘রহস্য আসলে কিছু না, খেলার প্রতি ভালোবাসা ও কঠোর পরিশ্রমই হল মূল বিষয়।’ শরীর যতদিন সায় দেয়, ততদিন ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।
Posted ১২:৩৫ পিএম | বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।