জাতীয় ডেস্ক | শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 200 বার পঠিত

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। জানাজার নামাজের আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্য দেন ওসমান হাদির বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে রাজধানীতে জুমার নামাজের পর একজন মানুষকে হত্যা করে যদি খুনিরা পার পেয়ে যায়, তবে সেটি জাতির জন্য চরম লজ্জার। জাতির কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কীভাবে মাত্র ৫–৬ ঘণ্টার মধ্যে খুনিরা সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে যেতে পারে।’
আজ শনিবার ভোর থেকেই হাদিকে শেষবারের মতো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই জড়ো হন হাসপাতাল এবং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। দুপুর আড়াইটায় জানাজার নামাজের ইমামতি করেন ওসমান হাদির বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক। জানাজায় অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বার্তা দিতে গিয়েই তার ছোট ভাই শহীদ হয়েছেন। আমার ভাই ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে, ওর শহীদী তামান্না ছিল। হয়তো আল্লাহ ওর শহীদী মৃত্যু নসীব করেছেন। আপনাদের কাছে আমি এই ঋণ কোনোদিন ছাড়বো না, আমার ভাই ওসমান হাদির খুনের বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে দেখতে পারি। ভাইয়েরা আমার- ৭–৮দিন হলো এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারলাম না, এই দুঃখে কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এই লাখ লাখ মানুষ আমার ভাইয়ের জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন। ওসমান হাদি দেশের কোটি মানুষকে শিখিয়ে গেছেন- কীভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হয়। আজ বলার কোনো ভাষা নেই।’ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বারবার আবেগে ভেঙে পড়েন।
ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক জানান, শহীদ ওসমান হাদির একটি আট মাস বয়সী সন্তান রয়েছে। সন্তানের জন্মের সময় ওসমান হাদি তার কাছে এমন একটি নাম চেয়েছিলেন, যাতে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতার প্রতিফলন থাকে। পরে যাচাই-বাছাই করে শিশুটির নাম রাখা হয় ‘ফিরনাস’-যার অর্থ বিপ্লবী ও সাহসী। তিনি বলেন, ‘আজ ওর সন্তানের দিকে তাকানো যায় না। আমার মা প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছে, জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। ভাই-বোনেরা সবাই ভেঙে পড়েছে।’
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ছয় ভাই-বোনের মধ্যে ওসমান ছিল সবচেয়ে ছোট। আজ তার লাশ আমার কাঁধে বহন করতে হচ্ছে—এর চেয়ে কষ্টের কিছু হতে পারে না।’
শেষ পর্যায়ে কান্নারত অবস্থায় তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর সন্তান কোনোদিন তার বাবার মুখ চিনতে পারবে না, জানবে না তার বাবা কেমন ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ওসমান তুমি মরো নাই, তুমি আমাদের সবাইকে পাগল করে দিয়ে গেছ।’
বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত, জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন এবং তার স্ত্রী–সন্তান ও পরিবারের জন্য দোয়া চান। একইসঙ্গে দেশবাসীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
Posted ৫:০৯ পিএম | শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।