জাতীয় ডেস্ক | মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 64 বার পঠিত

আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে গানে গানে সংহতি প্রকাশ করল দেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক অঙ্গন। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে ‘শুনাও আলোর জয়বাণী’ শীর্ষক গানে গানে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের মিলনায়তনে এ আয়োজনে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ, মানবিক মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মফিদুল হক। অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি পাঠ করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কৃষ্টি হেফাজ। বিবৃতিতে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার ক্ষেত্রগুলোর ওপর সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান। বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে তথাকথিত মব সন্ত্রাসী বাহিনীর পরিকল্পিত হামলায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার দপ্তর এবং ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথা।
বিবৃতিতে বলা হয়, উদার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাবহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পচর্চার ক্ষেত্রগুলোতে ধারাবাহিকভাবে হামলার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা গভীর উদ্বেগজনক। বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত, ঠাকুরগাঁওয়ে মাজারের কবর ভাঙচুর, ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সমাজকে বিভাজিত করে সাংস্কৃতিক বন্ধ্যত্বের দিকে ঠেলে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত অপচেষ্টারই অংশ।
বিবৃতিতে চট্টগ্রামে শিল্পীদের উদ্যোগে গানে গানে সংহতি প্রকাশের কর্মসূচি পুলিশের অসহযোগিতা ও বাধার কারণে বাস্তবায়িত না হওয়াকেও অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে প্রশাসনের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
সংহতি সমাবেশের সূচনা হয় দলীয় সংগীত ‘নাই নাই ভয়’ দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় ‘আমি ভয় করবো না’, ‘যদি তোর ডাক শুনে’, ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’, ‘সংঘ শরণ তীর্থ যাত্রা’, ‘এসো মুক্ত করো’, ‘সেদিন আর কত দূরে’, ‘আমাদের নানান মতে নানান দলে দলাদলি’, ‘মানুষ হ, মানুষ হ’, ‘হাতে মোদের কে দেবে’
ও ‘পথে এবার নামো সাথী’। সমবেত কণ্ঠে ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
আয়োজনে আগত দর্শনার্থী ও শ্রোতারা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, গানে, কবিতায় ও কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে এ সংহতি সমাবেশ আবার প্রমাণ করে– অন্ধকার যত ঘন হোক, বাংলার সংস্কৃতি আলোর জয়বাণী শোনাতেই জানে। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন জহিরুল হক খান, সৈয়দ ফয়সল আহমদ ও মাহমুদা আখতার। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত
সম্মিলন পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জনা চৌধুরী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
Posted ৪:৩৩ এএম | মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।