শনিবার ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

চার কৌশলে নিষিদ্ধ পপি চোরাচালান

জাতীয় ডেস্ক   |   রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   77 বার পঠিত

চার কৌশলে নিষিদ্ধ পপি চোরাচালান

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ মাদক পপি বীজ চোরাচালান চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। ঢাকার ব্যবসায়ী আকবর হোসেন ইয়ামিনের (৩০) বিরুদ্ধে এই চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। তিনি কখনও পাকিস্তান, কখনও মালয়েশিয়া থেকে এই পণ্য আনছেন। পপি আমদানির এলসি থেকে শুরু করে ব্যাংকিং লেনদেনের নথিতে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চার কৌশলে তিনি নিজেকে আড়ালে রেখেছেন।

এই চারটি কৌশল হচ্ছে– ১. পশুখাদ্য আমদানিকারকদের টার্গেট, বাড়তি লাভের লোভ, তিন তারকা হোটেলে বৈঠক, লাইসেন্স ব্যবহারের চুক্তি। ২. অর্থ জোগান ও স্থানান্তর এবং এলসি খোলা। ৩. পণ্য বন্দরে আসার পর আমদানিকারকের প্যাড ও সই জাল, পছন্দের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নিয়োগ, অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ ও কাস্টমসে নথিপত্র জমা। ৪. কাস্টমসে ধরা পড়লে আমদানিকারকের ভুয়া সইয়ে উচ্চ আদালতে রিট এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ।

সর্বশেষ গত ২২ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে ধরা পড়ে নিষিদ্ধ পপি। মালয়েশিয়ান কোম্পানি ‘নুর অ্যান্ড সন্স’ থেকে আমদানি চুক্তি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়া থেকে পাখিপণ্য না পাঠিয়ে পাকিস্তান থেকে পপি বীজ পাঠায়। এতে ফেঁসে যান আমদানিকারক ‘মেসার্স আদিব ট্রেডিং’।

আমদানিকারকের সঙ্গে প্রতি কেজিতে তিন টাকা লভ্যাংশের চুক্তিতে ৩২ হাজার কেজি পাখিখাদ্য আমদানির চুক্তি করেন ইয়ামিন।
এই চক্রে বন্দরের জেটি সরকার সাহেদ হোসাইন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমএইচ ট্রেডিংয়ের মালিক মোক্তারের নামও উঠে এসেছে। এমনকি চোরাচালান মামলা থেকে বাঁচতে হাইকোর্টে রিট মামলা করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আকবর হোসেন ইয়ামিন পুরান ঢাকার বীরেন বোস স্ট্রিটের মোস্তফা ট্রেড সেন্টারের মালিক। তিনি বলেন, ‘আমি পপি বীজ আমদানি করিনি। আমার আমদানি লাইসেন্সও নেই। যাদের লাইসেন্স দিয়ে আমদানি হয়েছে, তারা জানেন।’

আদিব ট্রেডিংয়ের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনে কোনো দিন পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি করিনি। আরব আমিরাত থেকে ৯ বার পশুখাদ্য আমদানি করেছি। কিন্তু আমাকে লভ্যাংশের ফাঁদে ফেলে ইয়ামিন ও সাহেদ ফাঁসিয়েছে।

যেভাবে আমদানিকারককে টাকা পাঠানো হয় পণ্য আমদানি করতে আমদানিকারকের লাইসেন্সের বিপরীতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বরাবর এলসি করতে হয়। তাই আমদানিকারক আদিব ট্রেডিংয়ের সাইফুলের চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জের ইসলামী ব্যাংক শাখার অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পাঠান ইয়ামিন। নিজের ইসলামী ব্যাংক ঢাকার লালবাগ শাখার ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট থেকে এই অর্থ পাঠানো হয়। তাঁর টাকা জমা দেওয়ার কাস্টমার জমা কপির স্লিপও হাতে এসেছে। পাঠানো অর্থ দিয়ে আমদানিকারক মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান ‘নুর অ্যান্ড সন্স’ বরাবরে এলসি করেন। কিন্তু পাখিখাদ্যের স্থলে পপি বীজ পাঠান রপ্তানিকারক।

পদে পদে জালিয়াতি
অনুসন্ধানে উঠে আসে, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য এলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং আমদানিকারকের সই ও সিল থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইয়ামিন-সাহেদ চক্র আমদানিকারক সাইফুলের সই নেননি। নিজেরা সাইফুলের সিল-সই জাল করে কাস্টমসে নথি জমা দেন। পণ্য খালাসে বিভিন্ন দলিলে জাল সই দিয়ে ইয়ামিন তাঁর পছন্দের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দিয়ে পণ্য খালাসের চেষ্টা করেন। এ ছাড়া সই জাল করে খামারবাড়ি থেকে ১০০ টন পশুখাদ্য আমদানির অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করেন। সর্বশেষ কাস্টমসের হাতে পপি ধরা পড়ার পর চোরাচালান মামলা থেকে বাঁচতে হাইকোর্টে আমদানিকারক সাইফুলের সই জাল করে রিট মামলা করেন ইয়ামিন।

সিআইডি চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পরিদর্শক নাছির উদ্দিন রাসেল বলেন, মালয়েশিয়া থেকে পপি বীজ চোরাচালানের হোতা হিসেবে আকবর হোসেন ইয়ামিনকে তদন্তে শনাক্ত করা হয়েছে। চোরাচালান মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিগগির আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
বিষয় :

Posted ২:৫৬ পিএম | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(302 বার পঠিত)
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।