জাতীয় ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 47 বার পঠিত

পূর্বাচল নতুন শহরে প্লট দুর্নীতির তিন মামলার রায় ঘোষণার আগে পর্যবেক্ষণে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা একজন রাজনৈতিক নেতা, চারবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তার কেন এত টাকা লাগবে, এত সম্পদ লাগবে?’ বিস্মিত হয়ে তিনি বলেন, ‘তার সম্পদের প্রতি এত লোভ’!
বৃহস্পতিবার এ মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয় যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর রোড থেকে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার ছয়টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন।
এদিন আদালতে বিচারক রায় দেওয়ার সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে শেখ হাসিনার রাজউকের প্লট নেওয়াকে “জাতির জন্য একটি বড় ধাক্কা” বলে উল্লেখ করেন। সেইসঙ্গে বিচারক শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ আছে বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী, কিন্তু তাঁর স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার নামে ১৯৭২ সালে বরাদ্দ পাওয়া একটি প্লটের বিষয়টি গোপন করেছেন। তিনি শুধু উল্লেখ করেছেন তাঁর নামে কোনো বরাদ্দ নেই।’
প্লট বরাদ্দ পেতে শেখ হাসিনার দেওয়া দুটি এফিডেভিটের কোনো মূল্য নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিচারক বলেন, ‘প্লট বরাদ্দের জন্য রাজউক বা সরকারি/আধা সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ার বিষয়ে এফিডেভিট দিতে হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার দেওয়া দুটি এফিডেভিটই নোটারি কর্তৃক প্রত্যায়িত হয়নি, ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর নেই। এসব হলফনামার কোনো আইনগত মূল্য নেই এবং এতে তথ্য গোপন করা হয়েছে।’
পাবলিক প্রপার্টির প্রতি শেখ হাসিনার লোভাতুর দৃষ্টি আছে বলে বিচারক বলেন, ‘তিনি চারবারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কেন প্লট বরাদ্দ লাগবে? রাজউক যখন বরাদ্দ দেয়, তিনি আবেদন করে সেই প্লট বুঝে নেন। চাইলে তিনি বরাদ্দ না নিলেও পারতেন। সেখানে একজন সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ বরাদ্দ পেতে পারতেন। এরপরও জনগণের সম্পদ থেকে লোভ সামলাতে পারেননি।’
পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছেন। রাজউক বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা যদি আইন না মানে তাহলে কে মানবে? তারা সংঘবদ্ধভাবে নিয়ম ভঙ্গ করেছে, তদারকি না করে।’
দেশের সর্বত্র প্রতিষ্ঠানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বিচারক বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে দুর্নীতি কমাতে হুইসেল-ব্লোয়িং সিস্টেম থাকতে হবে। ভেতরে যারা দুর্নীতি দেখবে, তারা যেন বাইরে জানাতে পারে। তাদের শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হলেন এমন একজন ব্যক্তি, সাধারণত একজন কর্মচারী, যিনি নিজের সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার অন্যায়, অবৈধ, অনৈতিক, বেআইনি, অনিরাপদ বা প্রতারণামূলক কাজ সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেন। এই তথ্য প্রকাশকে হুইসেল ব্লোয়িং বলা হয়।
বিচারক আরও উল্লেখ করেন, ‘২০২২ সালের ৩ আগস্ট শেখ হাসিনা প্লট পেয়েছেন। এর এক মাস না পেরোতেই ৩১ আগস্টে ছেলের জন্য সুপারিশ করেন। পরের মাসে ১১ সেপ্টেম্বর মেয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়। নিজের ছেলে-মেয়ে, বোন, বোনের ছেলে-মেয়ে সবাইকে সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা কী আশা করি রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে?’
Posted ৪:১৩ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।