শনিবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের অগ্রাধিকার ও স্বার্থ নির্ধারণের পরীক্ষা

বিশ্ব ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   3 বার পঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের অগ্রাধিকার ও স্বার্থ নির্ধারণের পরীক্ষা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার ইসরায়েল গেছেন। গত আট বছরে দ্বিতীয়বারের মতো এবং গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলে এটি মোদির প্রথম সফর। এতে মোদি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মোদির এই সফরের সূচিতে ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের কথা নেই।

মোদির এই সফর নিয়ে বুথবার ভারতের দুই সাংবাদিক ও কলামিস্ট নিকিতা যাদব এবং অভিষেক দের লেখা একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে বিবিসি। এতে বলা হয়, এক দশকেরও বেশি সময় আগে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মোদির এই সফর মূলত সেই সম্পর্ককে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদির এই সফর ভারতের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি পরীক্ষা হবে। কারণ, তারা ইসরায়েল এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ, এটি হবে ভারতের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে অগ্রাধিকার ও স্বার্থ নির্ধারণের পরীক্ষা।

এর আগে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের ব্যাপক হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ভারত। হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশটি। একই সঙ্গে দিল্লি গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বেসামরিক মানুষ হতাহতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

স্বাধীন ফিলিস্তিন, অর্থাৎ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিও ভারত তাদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে মোদির ইসরায়েল সফরে এ বিষয়গুলো কীভাবে আসে, সেটাই দেখার বিষয়।

এ ছাড়া মোদি এমন একসময়ে ইসরায়েল গেলেন, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-পাল্টা হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভারতের বিরোধী দলগুলোও মোদির এই সফরের সমালোচনায় মুখর। কংগ্রেস দলের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ এই সফরের নিন্দা জানিয়েছেন এবং মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি স্বার্থ ত্যাগ করার অভিযোগ তুলেছেন।
তবে সমালোচনা সত্ত্বেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত হিসাবনিকাশের প্রতিফলন।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মধ্যপ্রাচ্য কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক কবির তানেজা বলেন, ভারত ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে যা করা সম্ভব ছিল, তা অনেকাংশেই করেছে। ভারতের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান হলো, আঞ্চলিক বিরোধগুলো ওই অঞ্চলের মাধ্যমেই সমাধান করার প্রতি সমর্থন। ভারত যেমন তার নিজের বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ আশা করে না, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মোদির এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বন্ধন হলো দুই বিশ্বনেতার মধ্যে এক শক্তিশালী জোট। আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং একটি অভিন্ন কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির অংশীদার। আমরা স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর একটি অক্ষ তৈরি করছি।

মোদিও এর উত্তরে বলেছেন, ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে, যা বিশ্বাস, উদ্ভাবন এবং শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি অভিন্ন প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

Facebook Comments Box
বিষয় :

Posted ১:০১ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।